Type to search

বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদ

অভয়নগর

বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদ

 চিরঞ্জীব (এমএ আকাশ),
 সম্প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত  বেসরঃকলেজে আগামীতে আর অনার্স-মাস্টার্স কোর্স ‘চালু রাখা-না রাখার’ বিষয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন  পক্ষ ও শিক্ষাবিদগণও  এ বিষয়ে  স্ব-স্ব দৃষ্টিকোণ থেকে প্রায়ই ভিন্ন-ভিন্ন মতামত ব্যক্ত করছেন। এমনকি, একাদশ  জাতীয় সংসদের  ত্রয়োদশ অধিবেশনেও এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন সাংসদ তাদের মতামত বা দাবি তুলে ধরেছেন। যার অধিকাংশই ছিল এ মুহুর্তে  বেসরঃকলেজে কোর্সটি বন্ধ না করার পক্ষের মতামত । যদিও বিগত বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেই একই অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ও পরবর্তী  চতুর্দশ অধিবেশনেও মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এটির বিপরীতে কারিগরি /কর্মমুখী বিভিন্ন শর্ট  কোর্স চালুর চিন্তার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন  ।                                       এখন প্রশ্ন,বেসরঃকলেজগুলোতে কোর্স দুটি চালু হওয়ার দীর্ঘ২৮/২৯বৎসর পর হঠাৎ মানবজাতির মহা এ ক্রান্তিকালে এমন একটি  বিতর্কের যৌক্তিকতা আসলে কতটা?
        উল্লেখ্য যে, এ বিতর্কটি এমন একটি সময়ে শুরু হয়েছে যখন এ স্তরে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিগত অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় তাঁরা তাঁদের এমপিও দাবিতে বেশি সরব রয়েছেন । কেননা,দীর্ঘ সময় কোভিড-১৯ এর প্রভাবে  প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়  প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত শিক্ষকদের  যে যৎসামান্য  সম্মানী(শিক্ষার্থী বেতন নির্ভর) সেটিও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠনে এখন  বন্ধ প্রায় ।  – এটি অবশ্যই সত্য যে,সময়ের প্রয়োজনে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব এখন অনস্বীকার্য  । তাছাড়া বর্তমান সরকারের  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশণ  -২০২১ও রুপকল্প -২০৪১বাস্তবায়নে  মোট শিক্ষার্থীর যথাক্রমে২০%ও৪০% কারিগরি শিক্ষার্থীর যে  লক্ষ্য মাত্রা সেটিও যতটা দ্রুত সম্ভব আমাদের   পূরণ করাও জরুরী  । কিন্তু  শুধুমাত্র লক্ষ্যমাত্রা পূরণের স্বার্থে আমাদের এটিও ভুলে যাওয়া উচিৎ  হবে না যে,যেখানে১৯৯৭ও১৯৯৮সালে যথাক্রমে এসএসসি(ভোকেশনাল)ও এইচএসসি(ভোকেশনাল)কোর্স দু’টি   চালুর পর-কোর্সের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে ধরনের  ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা ছিল সেটি এখন পর্যন্ত সেভাবে পাওয়া সম্ভম হয়নি ;উপরুন্ত  প্রয়োজনীয় কারিগরি সরঞ্জাম /যন্ত্রাংশের ও দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাবে বস্তুত কোর্স দু’টি ব্যবহারিক নির্ভরতার পরিবর্তে অনেকটা তাত্ত্বিক  ও সনদ নির্ভরই হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ১৯৬৯সালে চালুকৃত(স্বাধীনতার পূর্বে) বিভিন্ন  কর্মমুখী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার অন্য যে ক্ষেত্রসমূহ এখন দেশে অনেকটা প্রসার লাভ করেছে(বিভিন্ন টেকনিক্যাল স্কুল, কলেজ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র) সেগুলোর  অধিকাংশের গুণগত মান নিয়েও যথেষ্ট প্রশ্ন  রয়েছে এখনও । এমন একটি কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে ডিগ্রি( পাস)কোর্স বা উচ্চ শিক্ষা পরবর্তী  কারিগরি শর্ট কোর্সের প্রতি শিক্ষার্থীদের কতটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল।    কেননা,ভিত্তিই যেখানে মজবুত নয়,সেখানে চূড়ায়  সফলতা প্রতাশা মোটেই সমীচীন হতে পারে না!               অবশ্য এ বিষয়ে সম্প্রতি গঠিত ১৫সদস্যের একটি সুপারিশ কমটি অনার্স -মাস্টার্স কোর্সের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মমুখী  শর্ট কোর্স  যুক্ত করে সময়োপযোগী একটি উচ্চ শিক্ষা কোর্স চালুর বিষয়ে এগোতে চেষ্টা   করছে বলে জানা গেছে   (আজকালের খবর৯/৭/২০২১)।
বাস্তবে সেটি যদি সম্ভবপর হয়ে ওঠে, তবে অবশ্যই সেটি ভালো বৈ কোন অংশে মন্দ হবে না। কিন্তু বিষয় হচ্ছে,বৈশ্বিক মহা এ সঙ্কট কালে বর্তমান বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে যেভাবে নেতিবাচক সমালোচনা চলছে সেটি একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্যে কতটা কল্যাণকর হতে পারে ?
এটি অবশ্যই কর্তা ব্যক্তিদের মনে রাখা উচিৎ যে,২৯বৎসরের আর্থিক বৈষম্যের সাথে চূড়ান্ত সামাজিক নিগৃহকে স্বীকার করেই এ স্তরের  শিক্ষকরা সেই ১৯৯৩সাল থেকে রীতিমতো  জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দান করছেন  । সেই সাথে এসব কলেজে এ স্তরে অধ্যয়নরত লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও রয়েছেন  চূড়ান্ত উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায়।              এদিকে   বিষয়টিকে ঝুলিয়ে রেখেই   ইতিমধ্যে  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন শিক্ষা বর্ষে শিক্ষার্থী  ভর্তি প্রক্রিয়াও  শুরু করেছে । ফলে, কোর্সটি   বিভিন্ন কলেজে ‘থাকা- না- থাকার’ অনিশ্চয়তা নিয়েই বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থীরা অনেকটা  বাধ্য হয়ে ভর্তি হচ্ছে । সাথে এ স্তরে কর্মরত শিক্ষকদের ২৯বৎসরের ননএমপিও অভিশপ্ত জীবনের  চূড়ান্ত অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তার মাত্রাও বেড়েছে কয়েক গুণ। এদিকে, লেখাটি যখন প্রকাশিত হবে ততক্ষণে হয়তো  ৫ই অক্টোবরের ভোরের আলোতে  “শিক্ষার পুনরুদ্ধারের কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষক ” প্রতিপাদ্যে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২১’উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। সেই ঔজ্জ্বল্যের শক্তি এ শিক্ষকদের কতটা আলোকিত করবে তা কে জানে!
সহজ কথা হচ্ছে,উদ্দেশ্য যাইহোক না কেন,সেটা অবশ্যই সার্বিক কল্যাণের নিমিত্তে হওয়া উচিত ;কোন ভাবেই কোন পক্ষকে বঞ্চিতের মানসে হওয়া উচিত নয়।অর্থাৎ এ সমস্যার সমাধানে এ স্তরের শিক্ষকদের একটি স্থায়ী  অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা বিধান  ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে  একটি সঠিক কারিকুলাম প্রকাশ এখন সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে । তাছাড়া ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকরা যদি জনবলে না থেকেও এমপিও আওতাতে আসতে পারে,তবে এ শিক্ষকদের সময়ের প্রয়োজনে একটি বিশেষ এমপিও ব্যবস্থা প্রণয়নে সমস্যা কোথায়?
সবিশেষ এটাই প্রত্যাশা,শিক্ষক দিবসের ঔজ্জ্বল্যে  জ্ঞান-বিজ্ঞান বা কারিগরি/কর্মমুখী  শিক্ষাতেই নয়,বাংলাদেশ সমভাবে  এগিয়ে যাক মানবিকতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতিটি পদক্ষেপে। অন্যথায় স্বাধীনতা উত্তর  সোনার বাংলার যে সপ্ন, তা অধরাই থেকে যাবে  কালের -পর -কাল। ধ্বংস নয়;সৃষ্টির উপযোগেই দেখা দিক সৃষ্টির নবতর উচ্ছ্বাস!
Attachments area

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *