Type to search

বুড়িগঙ্গায় ৩২ লাশ উদ্ধার

জাতীয়

বুড়িগঙ্গায় ৩২ লাশ উদ্ধার

অপরাজেয় বাংলা ডেক্স: বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশেও প্রতিদিনই কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। চারপাশে অস্থিরতা, আতঙ্ক। শোক। এর মধ্যেই ঘটে গেল আরেকটি বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা। শোক বইতে যুক্ত হলো অন্তত ৩২ নাম। ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর শ্যামবাজার-ফরাশগঞ্জ এলাকায় যাত্রীবাহী একটি লঞ্চডুবির ঘটনায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা এখনো অব্যাহত আছে।

গতকাল দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গের সামনে ভিড় করেন নিহতদের স্বজনরা। তাদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে সেখানকার পরিবেশ। শোকে-তাপে অনেককে করোনার আতঙ্ক ভুলে জনসমাগমের ভেতরই মাস্ক খুলে ফেলতে দেখা যায়। প্রিয়জনকে চিরতরে হারানোর ব্যথা সইতে না পেরে কেউ কেউ মূর্ছা যান। স্বজনদের পাশাপাশি উৎসুক জনতা করোনা ভাইরাস আতঙ্ক উপেক্ষা করে ভিড় জমান ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায়।

অন্যদিকে, লাশ উদ্ধার হওয়া স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। কেউ কেউ প্রিয়জনের লাশ শনাক্ত করে কাঁদছেন। কেউবা প্রিয়জনের খোঁজ না পেয়ে কাঁদছেন। তাদের স্বজনরা আরও বেশি দিশেহারা। কারণ তারা জানতেই পারছেন না প্রিয় মানুষটির ভাগ্যে কী ঘটেছে। এমনই এক অসহায় স্বজন মো. সেলিম। ভগ্নিপতির লাশের জন্য পাগলপ্রায় ষাটোর্ধ্ব নারায়ণগঞ্জের মো. সেলিম বুড়িগঙ্গা তীরে ছুটে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘তার ভগ্নিপতির নাম মনির হোসেন। বয়স ৫০ বছরের মতো হবে। লঞ্চে করে তিনি ঢাকায় আসছিলেন। লঞ্চডুবির পর থেকে তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। সকাল থেকে তার ফোনও বন্ধ।’

স্কুল-কলেজ পড়–য়া তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে পুরান ঢাকার কসাইটুলিতে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন জজকোর্টে মুহুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা আবদুর রহমান। করোনা ভাইরাস সংকটে কাজ না থাকায় দুই মাস আগে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়ি মিরকাদিম আব্দুল্লাহপুরে চলে গিয়েছিলেন। এবার ঢাকার ওই বাসার মালপত্র বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্ত্রী হাসিনা রহমান ও আট বছরের ছেলে সিফাতকে নিয়ে গতকাল সকালে সদরঘাটমুখী লঞ্চে উঠেছিলেন আবদুর রহমান। বুড়িগঙ্গা

নদীতে ডুবে যায় তাদের লঞ্চ। এরই মধ্যে হাসিনা রহমান (৩৫) ও তার ছেলে সিফাতের লাশ উদ্ধার করা হলেও আবদুর রহমানে খোঁজ এখনো পাননি স্বজনরা।

চলমান করোনা মহামারীর মধ্যে লঞ্চ দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণ হারানোর ঘটনা নিয়ে শোকের মাতম চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।

এ ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ডুবুরি দল, নৌবাহিনী, ২টি হেলিকাপ্টার, নৌপুলিশসহ স্থানীয় ও সামাজিক সংগঠনের লোকজন উদ্ধারে অংশগ্রহণ করেন। এ ঘটনায় ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল নয়টার দিকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে এমএল মর্নিং বার্ড নামের ছোট্ট দোতলা লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি এলাকা থেকে সদরঘাটের উদ্দেশে রওনা হয়। ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চ সদরঘাট লালপট্টি থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। ওই লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এতে মর্নিং বার্ড ডুবে যায়।

এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ধরা পড়েছে নদীপারের একটি সিসি ক্যামেরায়। তাতে দেখা যায়, এমএল মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ভেড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এমন সময় পেছন দিক থেকে আচমকা ময়ূর-২ লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। লঞ্চটি পুরো ডুবে গেলে আবার পেছনের দিকে সরে যেতে থাকে বড় আকৃতির ময়ূর-২ লঞ্চটি।

দুর্ঘটনার পর সাঁতার কেটে কিছু যাত্রী তীরে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ যাত্রী নদীতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় ডুবুরি দল নদী থেকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের মধ্যে রয়েছে ২১ জন পুরুষ, ৮ জন নারী, ৩ জন শিশু। নিখোঁজ রয়েছে আরও অনেকেই। নদী তীরবর্তী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সূত্র- আমাদের সময়