
নড়াইল
নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের প্রধান সহকারি শেখ আব্দুল আলিমকে একই পদে দুই ভাবে বেতন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আকবর আহম্মেদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে আব্দুল আলিমকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, শেখ আব্দুল আলিম নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজে বেসরকারি আমল হতে প্রধান সহকারী হিসাবে যোগদান করে কোন প্রমোশন বা পোস্টিং না পেয়ে চাকরি জীবন শেষ করেন। গত মার্চ মাসের ২১ তারিখে পি আর এল এ যান । কিন্তু তার আগে ৮ মার্চ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আকবর আহম্মেদ কৌশলে প্রধান সহকারী শেখ আব্দুল আলিমকে ১০ হাজার টাকা বেতনে মাস্টার রোলে রাখার জন্য রেজুলেশন করেন।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এক বছর প্রধান সহকারি শেখ আব্দুল আলিম পি আর এল এ সরকারি বেতন পাবেন। সেই হিসাবে শেখ আব্দুল আলিম প্রধান সহকারী হিসাবে মাস্টার রোল ও সরকারি বেতন পাচ্ছেন। এটি অনীয়ম এবং সরকারি অর্থের অপচয়।
এ বিষয়ে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক একাধিক অধ্যক্ষ জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একই পদে একই ব্যক্তি দুইভাবে বেতন নিতে পারেন না, এটা অনৈতিক। হয়তো ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এটা করছেন। আরো জানান, পিআরএল এ থাকা মানে ঐ কলেজে বেতনভুক্ত।
বর্তমান অধ্যক্ষ মোঃ আকবর আহমেদ বর্তমান ক্রয় কমিটির কাছ থেকে টাকার ভাগ নেয়া সহ অনেক অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। কিছুদিন আগে কোনো টেন্ডার বা সরকারি নীয়ম না মেনে কলেজের রড সহ লক্ষাধিক টাকার নির্মাণ সামগ্রী বিক্রয় করা হয় এবং এ কাজের মূল হোতা এবং আহ্বায়ক ছিলেন আকবর আহম্মদ। মো: আকবর আহম্মদ বিগত সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা গ্রহন করেছেন এখন আবার রুপ বদল করে প্রভাব বিস্তার করছেন। এসিআরএ বিরুপ থাকার পরও কৌশলে প্রফেসর পদে পদোন্নতি লাভ করে তিনি আরো বেপরোয়া আচরণ শুরু করেছেন। মো:আকবর আহম্মদের বিরুদ্ধে একাধিকবার তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্হা গ্রহনের সুপারিশ করলেও অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্হা গৃহীত হয়নি যে বিষয়টি সম্প্রতি নিয়াজ মাহমুদ ভিকু নামক একজন ব্যক্তি তথ্য প্রমাণ সহ ফেসবুকে পোস্ট করেন। কলেজের সরকারি কর্মচারী সালেহা খাতুন দীর্ঘদিন কলেজে অনুপস্হিত থাকলেও অবৈধভাবে তার বেতন বিল নীয়মিত প্রদান করছেন আকবর আহম্মদ। সম্প্রতি জীবন্ত আম গাছ কাটার বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে কৌশলে ধামা চাপা দেন আকবর আহম্মদ ও আব্দুল আলিম। দীর্ঘদিন যাবৎ আকবর ও আলিম সিন্ডিকেটের নিকট জিম্মি নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজ। কর্মকর্তা কর্মচারীদের নানা ভাবে হয়রানি করা এই সিন্ডিকেটের মূল উদ্দেশ্য।
নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের একাধিক সাধারণ শিক্ষক জানান, এটা অন্যায় তবে অধ্যক্ষ মহোদয় চেয়েছেন তাই বাধ্য হয়ে রেজুলেশন করা হয়েছে এবং আমরা স্বাক্ষর করেছি।
নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের কর্মচারীরা জানান, প্রধান সহকারী আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে কলেজের সম্পদ নিজের বাড়িতে ব্যাবহারসহ অনেক দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে এবং বিভিন্ন সময় নিউজও হয়েছে কিন্তু কোন ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি । এখন সে অবসরে গেছে তারপরও কলেজ ছাড়ছে না। এটা খুবই দুঃখজনক এবং তাকে বেসরকারি ফান্ড থেকে বেতন দেয়ার জন্য আমাদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে না। আমরা চাই নতুন প্রধান সহকারী পদায়ন হউক এবং আব্দুল আলিম কলেজ ত্যাগ করুক।
এসব বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: আকবর আহম্মেদ বক্তব্য ও তথ্য না দিয়ে কৌশলে এড়িয়ে যান এবং বলেন তথ্য অধিকার আইনে আপনারা দরখাস্ত করেন পরে জবাব দেওয়া হবে।

