Type to search

মাত্র ২ লাখ টাকা দিয়ে শতাধিক ব্যক্তির কিডনি বিক্রি করেছেন তাঁরা: র‌্যাব

রাজধানী

মাত্র ২ লাখ টাকা দিয়ে শতাধিক ব্যক্তির কিডনি বিক্রি করেছেন তাঁরা: র‌্যাব

আজ দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানিয়েছেন সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার কমান্ডার আল মঈন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার কমান্ডার আল মঈন

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার কমান্ডার আল মঈন
ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চক্রের সদস্যরা জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যকে টার্গেট করে অর্থের প্রলোভন দেখায়। ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে কিডনিদাতার কাছ থেকে কিডনি সংগ্রহের পর নির্ধারিত রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার কমান্ডার আল মঈন বলেন, চক্রটি প্রায় ১০ বছর ধরে সক্রিয়। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও রোগী এবং দাতা সংগ্রহ করেন। এই চক্রে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে। তাঁরা ৩টি ভাগে ভাগ হয়ে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়ের পুরো কাজটি সম্পন্ন করে। একটি গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করেন। তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কিডনি প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগী খুঁজে বের করেন। তারপর রোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিডনি সংগ্রহ করে দেওয়ার কথা বলে সম্পর্ক স্থাপন করে।

দ্বিতীয় গ্রুপটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ খুঁজে বের করে। তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি বিক্রির জন্য প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসে।

তৃতীয় দলটি প্রলোভনের শিকার কিডনিদাতাদের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর সঙ্গে রক্তের নমুনা মেলানোসহ বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজ করে।

খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, পরীক্ষায় কিডনি প্রতিস্থাপনের উপযুক্ততা নিশ্চিত হলে তৃতীয় দলটি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কিডনিদাতার পাসপোর্ট ও ভারতে ভিসার ব্যবস্থা করে। পাশের দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র বাংলাদেশি চক্রের যোগসাজশে ভুক্তভোগী কিডনিদাতাকে বিমানবন্দর বা স্থলবন্দর থেকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয়। তারপর বিভিন্ন হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে নির্ধারিত রোগীর জন্য কিডনি সংগ্রহ করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে ভুক্তভোগীদের বৈধ বা অবৈধ উপায়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

৪ লাখের কথা বলে কিডনিদাতাদের দেওয়া হয় ২ লাখ টাকা

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য চক্রটি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নেন রোগীদের কাছ থেকে। আর কিডনিদাতার সঙ্গে ৪ লাখ টাকার চুক্তি করলেও দিতেন মাত্র দুই লাখ টাকা। এমনকি নির্ধারিত টাকা না দিয়ে তাঁদের ভয় দেখান। একটি কিডনি প্রতিস্থাপনের পর চক্রের প্রধান ইমরান নেন ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা।

আইনি জটিলতা এড়াতে ভুক্তভোগীর পাসপোর্ট বা অন্যান্য কাগজপত্র নিজেদের কাছে রেখে দেন চক্রের সদস্যরা। চক্রের প্রধান ইমরান ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ কিডনি ও লিভার পেশেন্ট চিকিৎসা সেবা’ এবং ‘কিডনি লিভার চিকিৎসা সেবা’ নামে দুটি পেজের এডমিন।সূত্র,প্রথম আলো

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *