Type to search

বাজেটে সব বন্ডের সুদ করমুক্ত রাখাসহ ডিএসইর ৬ প্রস্তাব

ব্যবসা বানিজ্য

বাজেটে সব বন্ডের সুদ করমুক্ত রাখাসহ ডিএসইর ৬ প্রস্তাব

করোনাভাইরাসের কারণে অন্য সব খাতের মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারকে আরও বিকশিত ও গতিশীল করতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের কর্পোরেট বন্ডের উদ্ভূত সুদ করমুক্ত রাখা, করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা বাড়ানোসহ ছয়টি দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর নিকুঞ্জে বাজেট ঘোষণা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়েছে।

ডিএসইর দাবিগুলো হলো—

বন্ড বাজার সম্প্রসারণ: স্বতন্ত্র বন্ড মার্কেট তৈরির জন্য রেগুলেটরি এবং টেকনোলজিক্যাল কাঠামো সম্পূর্ণ রূপে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে কর্পোরেট বন্ড মার্কেটের আকার খুবই ছোট। ডিএসই মনে করে, একটি সময়োপযোগী নীতি সহায়তার মাধ্যমে কার্যকর বন্ড মার্কেট তৈরি করা গেলে দেশের শেয়ারবাজার তথা সামগ্রিক অর্থনীতি উপকৃত হবে। সেজন্য জিরো কুপন বন্ডের মতো সকল প্রকার কর্পোরেট বন্ডের উদ্ভূত সুদ বিনিয়োগকারী নির্বিশেষে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব জানায় ডিএসই।

কর্পোরেট করহার হ্রাস করা: প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ শতাংশের অধিক শেয়ার আইপিও’র মাধ্যমে হস্তান্তর হলে ওই তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য করহার ২২.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ। শেয়ারবাজারের টেকসই সম্প্রসারণের জন্য তালিকাভুক্ত এবং অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের ব্যবধান নূন্যতম ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে

তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি: শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ৫০ হাজার থেকে ন্যূনতম ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব জানানো হয়েছে। পাশাপাশি লভ্যাংশ থেকে উৎসে কর চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করার দাবি জানানো হয়েছে।

এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হ্রাস: ২০২১ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এসএমই বোর্ড নামে একটি পৃথক বোর্ড চালু করে। যার উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী মূলধন যোগান ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স উন্নত করা। এই বোর্ডে কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করার জন্য নূন্যতম ৫ বছরের জন্য হ্রাসকৃত ১০ শতাংশ হারে কর ধার্য্য করার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর কর হ্রাস: কোম্পানিগুলো কর পরবর্তী মুনাফা থেকে লভ্যাংশ দেয়। লভ্যাংশ আয়ের ওপর কর প্রকৃতপক্ষে দ্বৈত কর। এজন্য কর্পোরেট শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ আয়ের ওপর কর ২০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে কর্পোরেট করদাতাদের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ আয়ের ওপর চূড়ান্ত করহার ১০ শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে।

 

স্টক এক্সচেঞ্জে ট্রেকহোল্ডারদের উৎসে কর হ্রাস: পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ব্রোকারেজ হাউজকে ন্যায়সঙ্গত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে বিদ্যমান অযৌক্তিক করনীতি থেকে অবমুক্তি দিয়ে সিকিউরিটিজ লেনদেনের ওপর প্রদত্ত অগ্রিম আয়কর ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০১৫ শতাংশ (পূর্বে এটি ০.০১২৫ শতাংশ ছিল) করতে অথবা আয়কর অধ্যাদেশ মোতাবেক নিয়মিত হারে আয়কর প্রদানের আদেশ জারি ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসই জানায়, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, সেজন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *