Type to search

নড়াইলে দোভাষী স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে ৬দিন ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ সুমাইয়া

নড়াইল

নড়াইলে দোভাষী স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে ৬দিন ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ সুমাইয়া

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

নড়াইলে স্বামীর অমানুষিক নির্যাতন ৬দিন ধরে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ সুমাইয়া ৬দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ সুমাইয়া।
স্বামীকে মাদক সেবনে বাঁধা দেওয়ায় অমানুষিক নির্যাতনে ভেঙ্গে গেছে
সুমাইয়ার তিনটি দাঁত, ঠোঁটে লেগেছে ১০টি সেলাই। এছাড়া মাথাসহ শরীরের
বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে আঘাতের চিহৃ। এ ঘটনার মামলায় স্বামী এখন হাজতে।
বাকি ৩জন শ^শুর-শ^শুড়ি ও ননদ জামিনে মুক্ত। জামিনে বের হয়ে শ^শুর লোকজন
নিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়নের
পলইডাঙ্গা গ্রামে গৃহবধূ সুমাইয়া ইসলাম সকালে তার স্বামীর প্যান্টের
প্যাকেট থেকে গাঁজার টোপলা পেয়ে তা শ^াশুড়ীকে জানালে শ^াশুড়ী শেফালী বেগম
ও ননদ সামিরা তাকে পেটায়। পরে বিকেলে নড়াইলে নির্মাণাধীন রেলওয়ে প্রকল্পে
চীনাদের সঙ্গে দোভাষী হিসেবে কর্মরত আশিক বাড়িতে এসে রড় দিয়ে আরেক দফা
জখম করে। ওইদিন রাতে নির্যাতিতার ভাইয়েরা সুমাইয়াকে উদ্ধার করে সদর
হাসপাতালে ভর্তি করে।
জানা গেছে,এক বছর আগে লোহাগড়ার শামুকখোলা গ্রামের পুলিশ সদস্য নজরুল
ইসলামের মেয়ে সুমাইয়ার সাথে পলইডাঙ্গা গ্রামের আশিক খানের বিয়ের পরই আশিক
শ^শুরের পেনশনের টাকায় দামী মোটর সাইকেলের জন্য চাপ দেয়। এর মধ্যে
সুমাইয়া জানতে পারে তার স্বামী নেশাগ্রস্ত। বিভিন্ন সময় স্বামীর নেশার
প্রতিবাদ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে নালিশ করলে সুমাইয়াকে মারধর করতো
শ^শুর বাড়ির লোকেরা।
সুমাইয়ার ভাই রমজান ইসলাম জানায়, ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার পর এখন সুমাইয়ার
ম্বশুর মুনসুর খানসহ কয়েকজন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ফোনে চাপ দিচ্ছে।
মামলা তুলে না নিলে দেখে নেওয়া হবে হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে এইসএসসি পরীক্ষার্থী মেধাবী সুমাইয়া বলেন, আমার কপালে যাই থাক না
কেন আমি এ ঘটনার উপযুক্ত  বিচার চাই। আমি আর স্বামীর ঘর করতে চাই না।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার পার্থ সারথি রায়
জানান, সুমাইয়ার মাথা, দাঁত, ঠোঁটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ
এবং ক্ষত রয়েছে। তার নিরাময় হতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগবে।
নড়াইল সদর থানার ওসি (চলতি দায়িত্ব) মাহমুদুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী
গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তদন্ত করে জড়িতদের
বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *