Type to search

তালায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠ্যদান

শিক্ষা

তালায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠ্যদান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূণ ভবনে পাঠ্যদান কার্যক্রম চলছে। ভবনটি উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নের ১৩৫নং উত্তর ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সরেজমিনে দেখা গেছে,চার কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ পাঠ্যদানের অনুপযোগী। ভবনটির দেওয়ালে ফাটল ধরেছে। কয়েক জায়গায় রড বেরিয়ে পড়েছে। ভবনের ছাদে পানি জমে সিলিং এ ড্যাম ধরেছে। দীর্ঘ ৩০ বছরের পুরাতন ভবন সংস্কার করে পাঠ্যদানের কার্যক্রম চলছে। আগত বর্ষা মৌসুমে ভারি বৃষ্টিপাত হলে ভবনটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ওয়াস রুমের নির্মাণ কাজ চলমান। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় নাই। পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ৠতু ইয়াসমিন মিম,মল্লিকা দাশ,সোনালী আক্তার মুন্নি বলেন,বৃষ্টির সময় আমাদের বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে পানিতে তলিয়ে যায়। আমাদের বিদ্যালয়ে আসতে অনেক কষ্ট হয়। বেশি বৃষ্টি হলে ক্লাস রুমে পানি পড়ে। তখন আমাদের বই খাতা শুকনো জায়গায় জড়ো করে রাখি। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাম প্রসাদ মন্ডল,অভিভাবক সদস্য আলাউদ্দিন শেখ বলেন,কয়েকবার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু এখনও তার বাস্তব কোন অগ্রগতি নেই। এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে গ্রামের অভিভাবকরা এখানে শিশু পাঠাতে চাই না। আর আমারও তাদেরকে সদুত্তর দিতে পারি না। প্রধান শিক্ষক দে কার্তিক চন্দ্র বলেন,আমি বিদ্যালয়ের ২০১৮ সালে যোগদান করি। ভবনটি প্রায় ৩০ বছরের পুরাতন। ভবনে ফাটল ধরেছে। ছাদের অবস্থা ভালো নেই। নতুন ভবন নির্মাণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমারা ২য় অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে আমাদেরকে নতুন ভবন দেওয়া হয় নাই। বর্তমানে ভবনটি কয়েকবার সংস্কার করে মেঝের উচ্চতা বৃদ্ধি করা,জানলা দরজাসহ দেয়াল সংস্কার করে ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো:এজাহার আলী বলেন,আমার এলাকা বন্যা প্রবণ এলাকা। বর্ষা মৌসুমে এখানে পানিতে তলিয়ে যায়। যার ফলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে কষ্ট হয়। ২০১১ সালে এক ভয়াবহ বন্যায় ভবনটির প্রায় ছাঁদ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। আমারা এলাকাবাসী কয়েকবার মাটি উঁচু করা হয়। এছাড়া বেসরকারী এনজিও সংস্থার অর্থায়নে একটি কাঠের ঘর নির্মাণ করে পাঠ্যদান চলছে। বন্যা প্রবণ এলাকা হওয়ায় ভবনটি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী সাইফুল ইসলামের বলেন,তিনি ভবনের অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন। পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তালা উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ হালদার বলেন,প্রথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষা মন্ত্রালয়ের অধীনে। উক্ত মন্ত্রালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকি। তিনি আরও বলেন,PEMIS (Primary Eaducation Management Sustem) ওয়েবসাইটে সকল তথ্য পূরণ করে চাহিদাপত্র দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় বলে জানান তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *