কক্সবাজারে এক কিশোরীকে পথে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় ভাইকে বেধড়ক মারধর করেছে তিন বখাটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গত শনিবার রাতে ভাইরাল হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশ ঘটনায় জড়িত দুই বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও তরুণীর পরিবার জানায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার এক কিশোরী পাশের এলাকার বেড়িবাঁধ দিয়ে গত ৩১ মে শহরে যাচ্ছিল। এ সময় তিন বখাটে তরুণীর পথ রোধ করে উত্ত্যক্ত করে। ঘটনাটি দেখে তরুণীর ভাই বখাটেদের বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা পরা এক তরুণীকে বাঁচানোর জন্য জড়িয়ে ধরে এক যুবক। ওই যুবককে আরেক যুবক লাঠি নিয়ে বেধড়ক মারধর করছে। তার পরও তরুণীকে জড়িয়ে ধরে রয়েছে মারধরের শিকার যুবকটি। মাঝেমধ্যে যুবকটিকে লাথি মারছে হামলাকারীরা। পরে খালি গায়ের আরেক যুবক এসে কিল-ঘুষি ও লাথি মারছে তরুণীকে জড়িয়ে ধরা যুবককে। এ সময় ঘটনাস্থলে ঘোরাঘুরি করা তৃতীয় আরেক যুবক হামলাকারী দুজনকে সহায়তা করছিল।
তরুণীর ভাই বলেন, ‘গত ৩১ মে তাঁর বোন মামার বাড়ি যাচ্ছিল। পথে খুরুশকুল মনুপাড়ার জামাল, রায়হান ও আরমান নামের তিন যুবক তাঁর বোনকে অশ্লীল কথাবার্তা বলে উত্ত্যক্ত করছিল। এ সময় আমার বোন কয়েকবার ফিরে আসতে চাইলে তারা বারবার পথ আটকে রাখে। বিষয়টি দেখে আমি ছুটে আসি। কী কারণে আমার বোনকে বিরক্ত করছে জানতে চাইলে তারা আমাকে ও বোনকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। সেদিনের ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর থানায় অভিযোগও দিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আরমান ও রায়হান নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে। ওসি জানান, শনিবার রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে এ ঘটনায় এজাহার দিতে বলা হয়েছে। এজাহার পেলেই পুলিশ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।