Type to search

অভয়নগরে সড়কে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বাঁশ বেঁধে প্রতিবাদ

অভয়নগর

অভয়নগরে সড়কে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে বাঁশ বেঁধে প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার
ঠিাকাদার নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করায় এলাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে সড়কে বাঁশ বেঁধে যানচলাচল আটকে দিয়ে প্রতিবাদ জানালো অভয়নগরে শত শত জনগন। এর আগে জনদুর্ভোগের বিবরণ তুলে ধরে পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায়২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভাঙ্গাগেট বাদামতলা-আমতলা ভায়া মরিচা নাউলী বাজার সড়ক ২১ কিলোমিটার উন্নয়ন কাজ চলছে। সড়কের প্রস্থ ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করা হচ্ছে। ছয় মাস আগে সড়কের কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঠিকাদার সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সড়কের বেশিরভাগ জায়গায় খোয়া উঠে গেছে। সড়ক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা খোয়া এবং খোয়া ভেঙ্গে সৃষ্টি হওয়া লাল ধুলোবালুতে যানবাহন ও লোকজন চলাচল করতে পারছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারি এলাকার কয়েক লাখ মানুষ। ঠিকাদার কাজ বন্ধ রাখায়
এই অবস্থায় এলাকার বিক্ষুদ্ধ লোকজন আজ শনিবার সকালে আড়াআড়ি ভাবে বাঁশ বেঁধে সড়কটি দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন ও পথচারী চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে আটকা পড়েছেন শতাধিক যানবাহন।
অভয়নগর এলজিইডি সূত্র জানাগেছে, এশীয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) পল্লী সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের (আরসিআইপি) আওতায় ভাঙ্গাগেট বাদামতলা-আমতলা ভায়া মরিচা নাউলী বাজার সড়কের অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের ফেরিঘাটের মোড় থেকে আমতলা বাজার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার ৯৩৪ মিটার উন্নয়নের কাজ চলছে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৮ লাখ ২ হাজার ৯৩১ টাকা। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড কাজটি করছে। ২০২১ সালের ১১ এপ্রিল থেকে সড়কটির কাজ শুরু হয়েছে। গতবছরের (২০২২) ১০ অক্টোবর কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। পরে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি করার সুপারিশ করে অভয়নগর এলজিইডি। কিন্তু কাজের মেযাদ বেড়েছে কি না তার কোনো তথ্য নেই দপ্তরটির কাছে। সূত্র জানায়, সড়কটির প্রস্থ ছিল ১২ ফুট। দুই পাশে তিন ফুট করে ছয়ফুট বাড়িয়ে সড়কটি ১৮ ফুট করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ঠিকাদারকে ৮ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকার বিল দেওয়া হয়েছে।
আজ সকাল নয়টার দিকে এলাকার শতাধিক মানুষ উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের মোড়ে সমবেত হন। এরপর তাঁরা সড়কে ওপর আড়াাআড়িভাবে বাঁশ বেঁধে দেন। এরপর তাঁরা সড়কটির পাশে অবস্থান নেন। এতে সড়কটি দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষুদ্ধ লোকজন জানান, শংকরপাশা-আমতলা সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়ক দিয়ে নড়াইল এবং গোপালগঞ্জ হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করে এলাকার লোকজন। তা ছাড়া নড়াইল এবং অভয়নগর উপজেলার চার ইউনিয়নের লোকজন শিল্প ও বাণিজ্য শহর নওয়াপাড়ায় যাতায়াত করেন। ঠিকাদার প্রায় এক বছর ধরে কাজ না করে ফেলে রাখায় সড়কটি দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। সড়কটির লাল ধুলোবালুতে এলাকার ঘরবাড়ি, গাছপালা ও খেতের ফসল লাল হয়ে আছে। এলাকার মানুষের বিশেষ করে নারী ও শিশুদের কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে।
শংকরপাশা গ্রামের কৃষক আবু সাঈদ মুন্সী(৬৫) বলেন,‘রাস্তা দিয়ে চলাচল করার মতো অবস্থা নেই। লাল ধুলোবালিতে বাড়ি ঘর, খেতের ফসল ও গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। কাশি ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। দুপুর পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে।’
একই গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ মোল্যা(৫৫) বলেন,‘এক বছর ধরেন ঠিকাদার রাস্তার কাজ ফেলে রেখেছে। রাস্তা দিয়ে কোনোভাবেই চলাচল করা যাচ্ছে। ধুলোবালিতে বাড়িতে থাকা যাচ্ছে না। সব কিছুর রঙ পাল্টে লাল হয়ে গেছে।
দুপুরের মধ্যে প্রশাসনের লোকজন এখানে না আসলে অবরোধ চালিয়ে যাওয়া হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী এস এম ইয়াফি বলেন, ‘ঠিকাদার সড়কটির কাজ না করায় চলাচলে মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। কাজ করার জন্য ঠিকাদারকে চারটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এরপর এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারকে কাজ শুরু করার জন্য চূড়ান্ত চিঠি দিয়েছেন। তারপরও তিনি কাজ শুরু করেনিনি। ঠিকাদারের কাজ বাতিলের জন্য প্রশাসনিক অনুমতি চেয়ে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে ঠিকাদারের কাজ বাতিল করা হবে।’