Type to search

অভয়নগরে বে-ধর্মী স্বামীকে তালাক দেওয়ায় স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি

অভয়নগর

অভয়নগরে বে-ধর্মী স্বামীকে তালাক দেওয়ায় স্ত্রীকে প্রাণনাশের হুমকি

স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রী সাবিনা বেগমের সংবাদ সম্মেলন, থানায় অভিযোগ দায়ের

স্টাফ রিপোর্টার : ভালোবেসে জীবন সঙ্গী হিসাবে বিয়ে করেছিলো সাবিনা বেগম এক হিন্দু ধর্মাবলম্বী স্বামী কে । প্রেমেরটানে ধর্মান্তর হলেও প্রকৃত পক্ষে হিন্দু ধর্মের আচার অনুষ্ঠান পালন করতে থাকেন ওই স্বামী। একাধিক নারীর প্রতি ছিলো তার আসক্তি। স্বামীর এহেন আচরণে স্ত্রী বাঁধসাধায় তার উপর নেমে আসে অমানবিক অত্যচারের খড়ক। যে কারনে বিয়ের ১৫বছর পর স্ত্রী আদালতের মাধ্যেমে ওই স্বামী কে তালাক দিতে বাধ্য হলেন।
হতভাগা ওই স্ত্রীর নাম সাবিনা বেগম(৩০) তিনি যশোরের অভয়নগর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের সাহেব আলীর মেয়ে। সাবিনা বেগমের অভিযোগ স্বামী কে তালাক দেওয়ার কারনে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তার মা-বাবা ও আত্মীয়দের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে হুমকি ও নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য সাবিনা বেগম তালাক দেওয়া ওই স্বামীর বিরুদ্ধে বুধবার (১৮-০৮-২১) অভয়নগর প্রেসকøাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এর আগে তিনি একই অভিযোগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবিনা বেগম বলেন, ২০০৬ সালে বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সুনিল সাহার ছেলে মধু সাহা ওরফে গোলাম রসুলের সাথে প্রেমোজ সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। বিয়ের আগে মধু সাহা এফিডেভিট করে মুসলমান ধর্মগ্রহণ করে গোলাম রসুল নাম প্রাপ্ত হন। বর্তমানে তাদের তাসমিয়া(১২) নামে একটি মেয়ে ও মছা(৩) নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাবিনা বেগম বলেন, বিয়েরপর তিনি জানতে পারেন গোলাম রসুলের একাধিকবার বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে সর্বস্ব লুট করে ছেড়ে দেয়। ২০১২ সালে তিনি অতিষ্ট হয়ে স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে দুইজনে চাকরি করতে থাকেন। চারবছর পর বাড়ি ফিরে চাকরিকালীন তাদের গচ্ছিত টাকা ও মা-বাবার কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করেন কিন্তু ঝামেলা থাকায় ওই বাড়ি চার লক্ষ টাকা বিক্রি করেন যার অর্ধেক গোলাম রসুল ব্যাংকে রাখার নামে হাতিয়ে নিয়ে খরচ করে নয়ছয় করে ফেলে। এরপর তার কাছে থাকা দুই লক্ষ টাকা নেওয়ার জন্য নানাভাবে হয়রানি ও তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালায়। তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পিতা-মাতার পরামর্শে তিনি গত ১২ আগস্ট স্বামীকে তালাক দেন। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। গত মঙ্গলবার সন্ধায় পিতামাতার সাথে নওয়াপাড়া হতে বাড়ি ফেরারপথে মোটর সাইকেল স্ট্যান্ডে তাদের দেখে গোলাম রসুল গালিগালাজ করে ও পিতামাতাসহ দুই ভগ্নিপতিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তার আশংকা ভবিষ্যতে গোলাম রসুল ওরফে মধুসাহা তার সন্তানসহ আত্মীয়-স্বজনদের ক্ষতি করতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে সাবিনা বেগম আরো জানান তার বড় ভগ্নিপতি বিজিবি তে কর্মরত মাহবুব আলম কে বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবিনা বেগম জানান,কাপড়ের দোকানের কর্মচারি মধুসাহার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমোজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে জানা যানি হয় মধুসাহা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। এতে বিয়েতে বাধসাধে সাবিনা বেগমের আত্মীয় স্বজন । মধুসাহা তখন ইসলাম ধর্মগ্রহন করে সাবিনাকে বিয়ে করে। সাবিনার অভিযোগ মধুসাহা লোক দেখানো ধর্মাঅন্তর হলেও গোপনে সে হিন্দু ধর্মের আচার অনুষ্ঠান পালন করতে থাকেন। এছাড়া একাধিক নারীর সাথে সে পরকিয়ায় আসক্ত হয়। এনিয়ে পরিবারে মাঝে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। সাবিনা তার দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব কিছু নিরবে সহ্য করতে থাকে। এক পর্যায়ে সাবিনা ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টেসে চাকরি শুরু করেন। সেখানে কয়েক বছর চাকরি করে জমানো টাকা দিয়ে নওয়াপাড়া শংকরপাশা গ্রামে কয়েক শতক জমি ক্রয় করেন পরে ওই জমিতে বসত বাড়ি নির্মাণ করে তরা একত্রে বসবাস করতে থাকেন। কিন্তু আশপাশের পরিবেশ ভালো না হওয়ায় সাবিনা ওই জমি টি চার লাখ টাকায় বিক্রয় করেণ। ওই চার লাখ টাকা থেকে মধুসাহা দুইলাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই ঘটনায় সংসারে আরো অশান্তি বিরাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে সাবিনা আদালতের মাধ্যেমে স্বামীকে তালাক দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী সাবিনার আত্মীয় স¦জনের ওপর আক্রমন করতে শুরু করেন। সাবিনা উপয়াঅন্ত না পেয়ে থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ করেণ এবং একই দিন( ১৮-০৮-২১) অভয়নগর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এব্যাপারে জানতে চইলে স্বামী মধুসাহা বলেন, আমার স্ত্রীর সংঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে এবং তার সাথে আমার মোবাইলে সব সময় কথা হচ্ছে। আমি কাউকে আক্রমণ করিনি। আমি আমার স্ত্রী কে ফিরিয়ে আনার চেষ্ঠা চালাচ্ছি।

অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্য কে এম শামীম হাসান বলেন, আমি সারাদিন কাজে ব্যস্ত থাকায় সাবিনার দাখিল করা অভিযোগ আমার হাতে এসে পৌছায়নি। বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
সংবাদ সমে¥লনে উপস্থিত ছিলেন তার পিতা সাহেব আলী, মা সবুরোননেছা, ভগ্নিপতি মাহাবুর মোল্যা ও ভাগ্নে লুৎফর রহমান।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *