প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ২৭, ২০২৬, ৯:১৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৫, ২০২৬, ৫:১৬ পি.এম
![]()
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল সদর উপজেলায় বোরো ধানের ক্ষেতে সেচ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে সৌরবিদ্যুৎচালিত গভীর নলকূপ। এতে গ্রামের কৃষকদের সেচ খরচ যেমন কমেছে, তেমনি পানির সরবরাহও নিশ্চিত হয়েছে।
কৃষকরা জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের দুটি বিলে সোলার প্যানেলের সাহায্যে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। শুরুতে অনেকের মধ্যে সংশয় থাকলেও এখন এ পদ্ধতির সুফল পাচ্ছে সবাই।
উপকারভোগীদের নেই কোনো ডিজেল বা বিদ্যুতের চিন্তা। স্বল্প খরচে চাহিদামতো পানি পাওয়ায় খুশি এ এলাকার কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (ডিএই পার্ট) প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নে দুই বিলে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প (অগভীর নলকূপ) স্থাপন করা হয়েছে। এসব পাম্প থেকে দৈনিক ১৬ ঘণ্টায় আট লাখ লিটার পানি তোলা সম্ভব।
এর মাধ্যমে বোরো মৌসুমে তিন দিন পরপর সেচ দিলে মাটি ভেদে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টায় ৮৮ ইউনিট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। একইসঙ্গে ২৪ লিটার ডিজেল সাশ্রয় হচ্ছে, যা কৃষকদের ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ মেয়াদে এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার দিকে বড় একটি পদক্ষেপ।
সরেজমিন দেখা যায়, এলাকায় বোরো মৌসুমে পানির কোনো সংকট নেই। অবিরাম চলছে পানির প্রবাহ। মাঠজুড়ে সবুজ ধানের চারা বাতাসে দোল খাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে সেচ দিয়ে পাটের বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। নিয়মিত পানির সরবরাহ থাকায় জমির উর্বরতাও ভালো থাকছে বলে জানান কৃষকরা।
চাচড়া গ্রামের কাইদুল বিশ্বাস বলেন, সোলার পাম্পের কারণে আমরা স্বল্প খরচে বোরো আবাদে সেচ দিতে পারছি। আমাদের ডিজেলের জন্য পাম্পে গিয়ে লাইন দিতে হচ্ছে না। বোরো মৌসুমে অন্যান্য জায়গায় কৃষকরা সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে, তবে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই।
কৃষকরা জানান, সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে এলাকার অনেকেই সহজে সেচ দিতে পারছে। ধান ছাড়াও পাট-শাকসবজিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। সৌর পাম্পে শ্যালো মেশিনের তুলনায় অনেক গুণ লাভ।
মিতনা গ্রামের বিবেক কুমার বলেন, অনেকে ৭০০ টাকার শ্রম বাদ দিয়ে ধান বাঁচাতে ২০০ টাকার ডিজেল আনতে পাম্পে লম্বা লাইনে দাঁড়াচ্ছে। তেলের লিটার ২০০ টাকা, তাও সময়মতো পাচ্ছি না। আমাদের বোরো আবাদে সৌর পাম্পের মাধ্যমে সেচ দেওয়ায় আমাদের কোনো চিন্তা নেই। কোনোভাবনা নেই শুধু সূর্যের আলো থেকে আমাদের সব কিছু হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোনো বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে না। তেলের কোনো দরকার নেই, সুন্দরভাবে ফসল উঠছে। সরকারের প্রতি দাবি থাকবে কৃষকদের সুবিধায় এরকম সৌর পাম্প প্রত্যেক মাঠে স্থাপন করা হোক, যাতে বোতল নিয়ে আমাদের আর পাম্পে গিয়ে বসে থাকা না লাগে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এ প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত দুটি সোলার পাম্প বর্তমানে কৃষকরা যৌথভাবে পরিচালনা করছেন।
কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, বর্তমানে দুই থেকে তিন দিন পরপর প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এ ধরনের ব্যবস্থা আরো সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং তারা উপকৃত হবে।