
জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর)থেকে
যশোরের কেশবপুরে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মারপিটের ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলে কেশবপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে অভিযোগ করেছেন পৌরসভার আলতাপোল এলাকার অহেদুজ্জামান রাসেল। ২৯ মার্চ রোববার কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অহেদুজ্জামান বলেন, আমার ছোট ভাই রাফেউজ্জামান পারভেজসহ তার বন্ধুরা আমার মামাতো বোনকে নিয়ে ২১ মার্চ ঈদের দিন বিকেলে ঘুরতে বের হয়। একপর্যায়ে তারা কেশবপুর-ভান্ডারখোলা সড়কের বাজিতপুর জামে মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে বাজিতপুর এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে আব্দুল্লাহ, আবুল হাসেমের ছেলে রাজু এবং কাসেম পাটোয়ারীর ছেলে সাইফুলসহ এলাকার কিছু যুবক আমার বোনদের ইভটিজিং করে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তারা আমার ছোট ভাই রাফেউজ্জামানকে হাতুড়ি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে একটি দোকানে আটকে রাখে। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণের চেইন, স্বর্ণের বেসলেট, মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। সংবাদ পেয়ে বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছোটভাইকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। এঘটনায় গত ২৭ মার্চ রাতে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির বিশ্বাস (আলম), পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি কুতুবু উদ্দিন বিশ্বাস ও সাবেক কাউন্সিলন আফজাল হোসেন বাবু এবং জাকির হোসেনের নের্তৃত্বে কেশবপুর বড়মাছ বাজারে সালিস বৈঠকের সময় উত্তেজনা মূলক ইভটিজারগং আমাদের উপর চড়াও হয়। ওই সময় আমাদের চাচা সেনা সদস্য মাসুদুর রহমান সৈকত মাছ বাজারের রাস্তা দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। তিনি আমাদের দেখে এগিয়ে আসলে ইভটিজারগং তার উপরও হামলা চালায়। পরে যখন হামলাকারীরা জানতে পারে সৈকত একজন সেনা সদস্য তখন নিজেদের রক্ষা করতে সৈকতের উপর দোষ চাপিয়ে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সেনা সদস্যের মান-সম্মান ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি জনগণের কাছে নষ্ট করায় আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মাসুদুর রহমান বিভিন্ন সময় এলাকায় মাদক বিরোধী কথা বলায় তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। প্রকৃত পক্ষে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে কোন ভাবেই সম্পৃক্ত না। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণসহ তদন্ত পূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন তানভির কবির, ফেরদৌসী খাতুন ও পারভেজ হোসেন।

