
চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ঃ
যশোরের চৌগাছা-পুড়াপাড়া সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, তবে দায় নিচ্ছেন না কেউ!। চৌগাছা থেকে পুড়াপাড়ায় চলাচলকারী একমাত্র রাস্তাটি দীর্ঘ দিন পরে সংস্কার কাজ চলছে। এ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
উল্লিখিত রাস্তার মধ্যে চার কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার চলমান রয়েছে। কাজের মান ঠিক রাখতে না পারলে সামনের বর্ষা মৌসুমেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে। চলমান কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও তার দায় নিচ্ছে না কেউ।
এ ব্যাপারে আন্দারকোটা গ্রামের বাসীন্দা সাবেক আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আমিন বলেন, এ সড়কটি দীর্ঘদিন পর সংস্কার কাজ হওয়ায় এলাকাবাসী খুব খুশি। তবে রাস্তাটির কাজে খুব নিম্নমানের ইটের (আমা) আদলা ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছি না। যাকেই বলছি কেউ দায় নিতে চাইছেন না।
আন্দারকোটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তমজিদ হোসেন বলেন, সড়কটি সংস্কারে নিম্ন মানের ইট, মাটি পাইলিং বালি ও রাস্তার দুই পাশের পুরাতন এজিং তুলে বা ভেঙে রাস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে। কোন কোন স্থানে পুরাতন ইট ফের এজিংয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। বার বার বিভিন্ন অভিযোগ করলেও যেন দেখার কেউ নেই। কারণ রাস্তাটি একটি ব্যস্ততম রাস্তা। ওই সড়কে গড়ে ঢাকার পরিবহণ, যাত্রীবাহী বাস ও ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকে। সামনে বর্ষা আসছে। রাস্তাটিরকাজ মানসম্মত না হলে দ্রুতই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সুত্রে জানা যায়, সংস্কার চলমান সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় চার কিলোমিটার। এই সড়ক সংস্কারের জন্য প্রথম ভাগে কাজের টেন্ডার পেয়েছেন আরহাম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫,৭৮৭ টাকা। দ্বিতীয় ভাগে কাজের টেন্ডার পেয়েছেন রানা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। দুই ভাগে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। টেন্ডারে রাস্তার দুই পাশের পুরাতন এজিং ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। তাই এজিং তুলে ক্রাসার মেশিনে ভেঙে রাস্তায় যে উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে তার মান খারাপ হলেও আমাদের কিছু করার নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাতে কাজের মান ঠিক রাখা যায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পুড়াপাড়া বাজার থেকে গড়ে শতাধিক বাস ট্রাক চৌগাছা হয়ে এ সড়ক ব্যবহার করে যশোরসহ রাজধানী ঢাকায় চলাচল করে। সংস্কার চলমান রাস্তাটি চৌগাছা সদর থেকে দশ কিলোমিটার দূরুত্ব। নিম্নমানের কাজের বিষয়ে ঠিকাদার এবং উপজেলা প্রকৌশলীকে মৌখিক ভাবে বারবার জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। রাস্তায় নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে আরহাম এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সাকিব আহমেদ বলেন, আমি কাজটি পেয়েছিলাম পরে তা সানি এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সানি আহমেদের নিটক বিক্রি করে দিয়েছি। তারাই কাজটি করছেন।
দ্বিতীয় ভাগে কাজের টেন্ডার পেয়েছেন রানা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকা। কাজ বাস্তবায়ন করছেন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার সাইদুল ইসলাম নামে এক সাবকন্টাকটার। তিনি বলেন আমি কাজটিকিনেছি। রাস্তার দুই পাশের পুরাতন এজিং তুলে বা ভেঙে রাস্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাস্তার পাশে নতুন এজিং করা হয়েছে। পুরাতন এজিং আমরা কোথায় রাখব। এ বিষয়ে আপনি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারেন। আমার কোন সমস্যা নাই।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু বলেন, চৌগাছার সঙ্গে সংযুক্ত সড়কের আংশিক প্রায় চার কিলোমিটার রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে কাজের মান নিয়ে আপস না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে এসড়ক সংস্কারে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ এলাকার কিছু ব্যক্তি তুলেছেন। আমি এ রাস্তাটি পরিদর্শনে গিয়ে ছিলাম। আপনি নিউজ করলে করেন আমার কোন সমস্যা নেই। তবে পরে যাতে কোন সাংবাদিক এ ব্যাপারে নিউজ না করেন সে ব্যাপারে তিনি জোর তদবির করেন।
যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুর রহমান বরেণ, রাস্তা সংস্কারের কাজ হাত বদল হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন,রবিবার (১ মার্চ) আমার দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী নুর আলমকে এ রাস্তা পরিদর্শনে যাবেন। রাস্তা নির্মাণেনিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হয়ে থাকলে সেই উপকরণ সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ না মানলেসংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অঅইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

