
স্টাফ রিপোর্টর
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নৌ বন্দরে জাহাজ মালিকের কাছ থেকে বকেয়া আদাকে কেন্দ্র করে নৌ শ্রমিক নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
হামলার শিকার ওই নেতার নাম নিয়ামুল ইসলাম রিকো। তিনি বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন নওয়াপাড়া শাখার সদস্য সচিব। বুধবার বিকালে স্থানীয় ফেরিঘাটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত নিয়ামুল ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে (১৯/২/২০২৬) নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন নওয়াপাড়া বাজারে প্রতিবাদ সভা করেছে। সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের বিভাগীয় নেতা হাসান আলী মাষ্টার, বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম বাহার, সংগঠনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য আশুতোষ বিশ^াস, নাজমুল হুসাইন প্রমুখ।
সভা শেষে সংবাদিকদের কাছে এক লিখিত বক্তব্যে হাসান আলী মুন্সি জানান, ফ্যসিবাদি সরকারের দালালেরা এ হামলা করেছে। এক বছর আগে এম ভি ৭ সিচ -৪ নামে একটি জাহাজ ফুলতলা এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে জাহাজের মালামাল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ ঘটনায় জাহাজ মালিক পক্ষের সাথে নৌযান শ্রমিক নেত্রীবৃন্দের সমন্বয়ে একটি সালিশ মিমাংশা হয়। সালিশে জাহাজ মালিক পক্ষ এক কোটি টাকা ক্ষতি পূরন দেবেন মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু জাহাজ কর্তৃপক্ষ এর কিছু টাকা পরিশোধ করলেও ম্টো টাকা বকেয়ো পড়ে থাকে। এ নিয়ে মালের প্রতিনিধির পক্ষ শ্রমিক নেতাদের ওপর বকেয়া আদায়ের জন্য চাপদিতে থাকে। এক পর্যয়ে ওই জাহাজটি ঘটনার দিন নওয়াপাড়া ফেরি ঘাটে মাল আনলোড করা কালিন খুলনা লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন এর সভাপিত হাসান মুন্সি ও নৌ-যান শ্রমিক ফেডোরেশনের নওয়াপাড়া শাখার সদস্য সচিব নিয়ামুল ইসলাম রিকো জাহাজ থেকে মাল আন লোড করতে বাঁধা দেয়। এ সময় জাহাজ মালিক পক্ষ রাজু মাষ্টারের নের্তৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাদোর ওপর হামলা করে। হামলায় নিয়ামুল ইসলাম রিকো রক্তাত্ব যখম হয়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সংগঠনের বিভাগিয় উপদেষ্টা নাজমুল হুসাইন বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার থানায় অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন, রাজু ফারাজি (৩৫),সাইফুল ইসলাম(২৭),মোস্তফা কামাল রানা(৫০),ইকবাল হোসেন(৪৫),আল আমিন(৪৫) সহ অজ্ঞতনামা আরো ৪ থেকে ৫ জন।
এদিকে এ ঘটনাকে চাঁদাবাজি বলে মিথ্যা অভিযোগ এনে হামলাকারি পক্ষ নৌযান শ্রমিক ফোরেশন নের্তবৃন্দের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগের তদন্তকারি কর্মকর্তা থানার সহকারি পরিদর্শক(এস আই) ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘চাঁদা বাজির অভিযোগটি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। মুলত ঘটনা হয়েছে ওই জাহাজ মালিকের কাছে বকেয়া পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে’।
থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম নূরুজ্জামান বলেন, চাঁদা বাজির ঘটনা মিথ্যা। জাহাজ মালিক পক্ষের কাছে পূর্বের একটি পাওনা নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মারাত্মক ভাবে কেউ আহত হয়নি। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

