
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু,চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও আইনজীবী এ. কে. এম. মুসার ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে তাঁর স্মরণে চুয়াডাঙ্গা পুরাতন মাদ্রাসাপাড়াস্থ নিজ বাড়ি এবং ঢাকার উত্তরখানে তাঁর বড় ছেলের বাসভবনে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ. কে. এম. মুসা দৈনিক ইত্তেফাক এর চুয়াডাঙ্গা জেলা নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি (১৯৮৪ ও ১৯৮৫) ছিলেন এবং বাংলাদেশ বেতারের চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা হিসেবেও কাজ করেন।
১৯৮৫ সালের ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে শেষবারের মতো অংশ নেন তিনি। ওই সময় তিনি ঢাকায় বড় ছেলে সাংবাদিক বাবলু রহমানের কল্যাণপুরের বাসায় অবস্থান করছিলেন। সেদিন গভীর রাতে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি চার পুত্র ও পাঁচ কন্যার জনক ছিলেন।
এ.কে.এম. মুসা চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার (১৯৬৬) অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক সংবাদ, এসোসিয়েট প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি), বাংলাদেশ প্রেস ইন্টারন্যাশনাল (বিপিআই) এবং দি বাংলাদেশ টাইমস-এর নিজস্ব সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি চুয়াডাঙ্গায় কচি কাঁচার আসরের সংগঠক ছিলেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ (ভাসানী)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জীবনের শেষ নয় বছর তিনি আইনজীবী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৩২ সালে চুয়াডাঙ্গার টাকপাড়া-ছয়ঘরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এ.কে.এম. মুসা। তাঁর পিতা সাদেক আলী বিশ্বাস ও মাতা রহিমা খাতুন জোয়ার্দ্দার। শৈশবে পিতা-মাতাকে হারিয়ে এতিম অবস্থায় আত্মীয়-স্বজনের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠেন তিনি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজ প্রচেষ্টায় শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করে সাংবাদিকতা ও আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা শ্রদ্ধাভরে এই গুণী সাংবাদিককে স্মরণ করছেন।

