
নড়াইল প্রতিনিধি
আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদের জন্মদিন।
ল্যান্স নাশেক বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের বসতভিটার স্মৃতিসৌধটি পড়ে রয়েছে অযত্ন আর অবহেলায়। নড়াইল সদর উপজেলার চন্ড্রিবরপুর ইউনিয়নের (সাবেক মহিষখোলা বর্তমানে নূর মোহাম্মদ নগর) গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নেই কোনো প্রাচীর। প্রাচীর না থাকায় সেখানে যত্রতত্র ছাগল গরুসহ বিভিন্ন পশু অবাধে বিচরণ করছে। এতে পরিবেশ হচ্ছে নোংরা।
স্থানীয় শিক্ষক হারুনার রশিদ বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ- এর স্মৃতিসৌধ দেখতে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসে। কিন্তু স্মৃতিসৌধটি অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে আছে। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য নেই কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্তা। নেই টয়লেট শুধু রয়েছে বসার জন্য কয়েকটি বেঞ্চ। যার অবস্থা ও ভঙ্গুর। আমরা চাই এখানে প্রাচীর নির্মাণসহ যাবতীয় সব করা হোক।
অপরদিকে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদকে ঘিরে এখানে, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ মহাবিদ্যালয়, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ গ্রন্থগার ও স্মৃতি যাদুঘর গড়ে উঠলেও সেখানে রয়েছে জনবলের ঘাটতিসহ নানা অব্যবস্থাপনা। বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর দেখভালের দায়িত্বে থাকা মো. ইউনুস শেখ বলেন, এখানে ৮ হাজারের মত বই,আলমিরাসহ লক্ষ লক্ষ টাকার সম্পদ রয়েছে কিন্তু জনবল না থাকায় সেগুলা বিলীন হওয়ার পথে। এখানে পাঠকসহ দর্শনার্থীরা আসে আবার স্মৃতিসৌধেও দর্শনার্থীরা আসে। আমি এখানে থাকলে ওদিক ঠিক থাকেনা আবার ওদিক গেলে এখানে ঠিক থাকেনা। অন্তত পক্ষে আরেকজনকে নিয়োগ দিলে সবকিছু ঠিকঠাক মত দেখেশুনে রাখা যাবে।
নূর মোহাম্মদ নগরের আলমগীর শেখ নামে এক বাসিন্দা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর, কলেজ, স্কুলে কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না। এখানে বসার কোনো ব্যবস্তা নেই সুপেয় পানির ব্যবস্তা নেই প্রাচীর নেই। সরকারের কাছে আবেদন করি তিনারা যেন এদিকে একটু নজর দেন।
এ বিষয়ে নড়াইল-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, আমি সবেমাত্র এখানে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলাম। যতদ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জনবল নিয়োগ এবং অসমাপ্ত যে কাজ আছে সেগুলা সমাধান করব।
উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন, (বর্তমানে নূর মোহাম্মদনগর)। ১৯৭১ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীকে একাই প্রতিরোধ এবং দলীয় সঙ্গীদের জীবন ও অস্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ শেখ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে তাকে সমাহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

