
নড়াইল প্রতিনিধি
বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নড়াইল সদর ও লোহাগড়ার গুরুত্বপূর্ণ ৬ নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলীয় নেতাদের বহিষ্কার করা হয়।
নড়াইল জেলার বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: নড়াইল সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজাহিদুল ইসলাম পলাশ, সদর পৌর বিএনপির সভাপতি মো. তেলায়েত হোসেন, লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আহাদুজ্জামান বাটু, সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানুজ্জামান সেলিম, লোহাগড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মিলু শরীফ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মশিয়ার রহমান সান্টু।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য উল্লেখিত নেতাকর্মীদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনে গত ৪ ডিসেম্বর বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর ঠিক ২০ দিন পর ২৪ ডিসেম্বর মো. মনিরুল ইসলামের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে শরীক দল নেতা এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয় দল থেকে। তখন দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন পূর্ণ বহালদের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
দলীয় মনোনয়ন হারিয়ে নড়াইল-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন তিনি। নির্ধারিত দিনে যাচাই-বাছাই শেষে নড়াইলের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীক বরাদ্দ পান তিনি। আর ওই দিনই দল থেকে বহিষ্কার করা হয় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামকে।
এদিকে বহিষ্কারাদেশ প্রেস বিজ্ঞপ্তির পর লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহাদুজ্জামান বাটু বলেন, ‘দলের প্রতি আমাদের সম্মান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময় থাকবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পর আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করছি। পরে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ফরিদুজ্জামানকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আমরা তখন দলের ত্যাগী নির্যাতিত নেতার মনোনয়ন পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলাম। প্রতীক বরাদ্দের পর আমরা ধানের শীষের বিপক্ষে কোনো মিছিল মিটিং প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নড়াইল-২ আসন থেকে ফরিদুজ্জামান ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক যোগাযোগ করেননি। তিনি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রকে বিভ্রান্ত করে কোনো একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে দলের মেরুদণ্ড ভাঙতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ এতোগুলো নেতাকে বহিষ্কার করিয়েছেন। তবুও বলবো, দলের সিদ্ধান্ত সবসময় আমরা মাথা পেতে নিবো।’

