নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুনাভ রায়ের ঘুষ বাণিজ্য ও নানা অনিয়ম উল্লেখ করে দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদনের খবর পাওয়া গেছে । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ অনুমোদন, কার্যাদেশ প্রদান এবং বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এমনকি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বিল ছাড় করতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক ঠিকাদার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটছে।
একাধিক ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অরুনাভ রায় বাইরে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
আরো জানান,নড়াইল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অরুনাভ রায় গত ২০-০৬-২০১৯ খ্রি. থেকে প্রায় ৫ বছরের উপর নড়াইল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে কর্মরত আছেন। এখানে দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই তিনি ঘুষ-বানিজ্য এবং নানা ধরনের গুরুতর অনিয়মের সাথে জড়িত। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ শাসনের সময় তিনি আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতাদের সাথে সু-কৌশলে সু-সম্পর্ক রেখে দাপটের সাথে চলেছেন এবং নিয়মিত ভাবে তাদেরকে কাজ পাইয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে বিভিন্ন ঠিকাদারদের সাথে পার্টনারশিপে ব্যবসা করে চলেছেন। ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার শর্তে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করেন এবং সেই অর্থ দিয়ে তিনি ইতিমধ্যে ইন্ডিয়াতে বাড়ি নির্মাণ করেছেন, ঢাকাতে আত্মীয়দের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন এবং তাহার শ্বশুরকে দিয়েও ক্লিনিক ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, যা সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। তিনি এখনো চলমান টেন্ডারের কাজ তার পছন্দের ঠিকাদারদের পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে সচেষ্ট রয়েছে। তাকে অফিস চলাকালীন সময়ে তাহার নিজের রুমে, অফিসের বাহিরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এমনকি নড়াইলে তাহার ভাড়ার বাসাতেও ওই লোকজনের সাথে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তিনি আওয়ামীলীগের পূর্ণবাসনের জন্য আওয়ামীলীগের নেতাদের অর্থায়ন করেন বলে স্থানীয় সুশীল ও দুর্নীতি বিরোধী সংগঠনগুলো মনে করে। অপরদিকে ঠিকাদারগণ নিয়মিত কাজ শেষ করলেও তিনি বিল আটকে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করে ফলে অফিসে এই ব্যাপার নিয়ে সারাক্ষণ বিশৃঙ্খলা লেগে থাকে যা স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত গড়িয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি সময় এখানে চাকুরীর বয়স হওয়ার পরেও তিনি উপর মহলের বিভিন্ন মানুষের সাথে হাত করে আরও দীর্ঘদিন এখানে থাকার চেষ্টায় রয়েছেন।
আরো জানান,নিয়ম মেনে কাজ শেষ করলেও সময়মতো বিল পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা হচ্ছে কিংবা অযৌক্তিক ত্রুটি দেখিয়ে বিল ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে স্থানীয় সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো এ ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা আশা প্রকাশ করেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।###
হাফিজুল নিলু
নড়াইল
২৬.০৩.২৬
০১৭১৬৭৩১৭৭০
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ কামরুল ইসলাম
মোবাইল নং : ০১৭১০৭৮৫০৪০
Copyright © 2026 অপরাজেয় বাংলা. All rights reserved.