
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় কাজী আল মামুন (৩৮) নামে এক স্কুল শিক্ষকের ফেসবুক আইডি হ্যাকের পর অপপ্রচার চালিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।
গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক লোহাগড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগী কাজী আল মামুন লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং তিনি উপজেলার খলিসাখালি গ্রামের মৃত কাজী আকতার হোসেনের ছেলে।
সাধারণ ডায়রি সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাতনামা একটি সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজী আল মামুনের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে অনুপ্রবেশ করে। বিষয়টি প্রথমে তিনি বুঝতে না পারলেও পরবর্তীতে একটি হ্যাকার গ্রুপের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, নড়াইল জেলার কোনো একটি এলাকা থেকে একটি ইন্ডিয়ান শাওমি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার ফেসবুক আইডিতে নিয়মিত লগইন করা হচ্ছিল। হ্যাকাররা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুয়া আইডির সঙ্গে চ্যাটিং দেখিয়ে স্ক্রিনশট তৈরি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক কাজী আল মামুন বলেন, আমার ফেসবুক আইডিটি বেশ কিছুদিন আগেই হ্যাক করা হয়েছিল, কিন্তু আমি তা বুঝতে পারিনি। পরে জানতে পারি, একটি সংঘবদ্ধ হ্যাকার চক্র আমার আইডি নিয়ন্ত্রণ করছে। গত (২১ জানুয়ারি) আমার কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, (২৪ জানুয়ারি) কয়েকটি অপরিচিত ফেসবুক আইডি থেকে আমার মেসেঞ্জার হ্যাক করে সেখানকার কিছু ছবি বিকৃত ও মডিফাই করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় আমার সামাজিক সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি একজন শিক্ষক আমার সম্মানই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি ও আমার পরিবার চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে সাধারণ ডায়রির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লোহাগড়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহীন মিয়া বলেন, জিডির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

