আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, যা স্থানীয়ভাবে ‘পদ্মপুকুর হাসপাতাল’ নামে পরিচিত, সেটি কেবল ঝিকরগাছা নয়, বরং পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর ও শার্শা উপজেলার হাজারো মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। অতীতে এই হাসপাতালের সেবার মান ও সুনাম থাকলেও, বর্তমানে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে চিকিৎসা না পেয়েই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগীরা।
সম্প্রতি পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে সরকারি ছুটির আগমুহূর্তে রবিবার (২৪ মে) দুপুর ১২টার সময় কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি টেকনিশিয়ান) রিয়াজুল ইসলামের বিনা ছুটিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি রোগীদের ভোগান্তিকে চরমে নিয়ে গেছে। হাসপাতালের রেকর্ডপত্র ঘেঁটে তার কোনো ছুটির দরখাস্ত পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টেকনিশিয়ান রিয়াজুল ইসলাম নিয়মিত কর্মস্থলে আসলেও নিজের রুমে থাকেন না। অফিস চলাকালীন সময়েও তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, যার ফলে সাধারণ রোগীদের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে রোগীদের বাড়তি ভিড় থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে জরুরি এই সেবা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইসিজি করতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। ভুক্তভোগী শাকিল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই হাসপাতালে এসেছিলাম ভরসা নিয়ে। কিন্তু ইসিজি করতে এসে দেখি টেকনিশিয়ান নেই। দায়িত্বরত অন্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, তার কোনো ছুটির আবেদন নেই। হাসপাতালে এসেও তাকে রুমে না পাওয়াটা যেন নিত্যদিনের ঘটনা।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দায়িত্বে থাকা প্রধান সহকারী (বড় বাবু) শওকত আকবরের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি প্রথমে রিয়াজুল ইসলামের মোবাইল নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি নিজেই রিয়াজুলের নম্বরে কল করলেও রিয়াজুল ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে শওকত আকবর সংবাদকর্মীদের কাছে নম্বরটি প্রদান করেন এবং নিশ্চিত করেন যে, রিয়াজুলের কোনো ছুটির আবেদনের কপি তার নিকট নেই।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কার্ডিওগ্রাফার রিয়াজুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রশিদ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি অফিসে উপস্থিত না থাকার পাশাপাশি বিনা ছুটিতে অনুপস্থিত। এছাড়া তার রুমে না থাকার অভিযোগটিও আমরা খতিয়ে দেখছি। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দেখভালের দায়িত্ব বড় বাবু শওকতের ওপর দেওয়া রয়েছে। তার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে সরকারি সেবা অব্যাহত রাখতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” হাসপাতালের এই অবক্ষয় রোধে এবং স্থানীয় তিন উপজেলার অসহায় রোগীদের কথা ভেবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ কামরুল ইসলাম
মোবাইল নং : ০১৭১০৭৮৫০৪০
Copyright © 2026 অপরাজেয় বাংলা. All rights reserved.