চৌগাছা-ঝিকরগাছার জামায়াত প্রার্থীর সাথে নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
চৌগাছা-ঝিকরগাছার জামায়াত প্রার্থীর সাথে নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়
শ্যামল দত্ত চৌগাছা প্রতিনিধি(যশোর)
যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদের সঙ্গে চৌগাছা ও ঝিকরগাছা জামায়াত নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩রা মার্চ) বিকেলে যশোর জেলা জামায়াত ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা গোলাম রসুল। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবু জাফর সিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক গোলাম কুদ্দুস, শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন ও রেজাউল করিম, যশোর শহর জামায়াতের আমীর মো. শামসুজ্জামান, ঝিকরগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল আলীম, চৌগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম মোর্শেদসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ বলেন, “দেশের এই ক্রান্তিকালে জামায়াতে ইসলামীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি দেশে এসেছি। ব্রিটেনে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন ছেড়ে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার লন্ডনে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল। তবে বিভিন্ন জটিলতা থাকায় একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। আমি সেই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং ইতোমধ্যেই ঢাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছি।”
ডা. ফরিদ আরও জানান, তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দেশে ফিরে এসেছেন এবং বর্তমানে আদ-দ্বীন হাসপাতালে একজন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন।
শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইনটেনসিভ কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ যশোরের খড়কি ঐতিহ্যবাহী পীর বাড়ির সন্তান এবং যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম শরীফ হোসেনের ছেলে।
১৯৬১ সালে জন্মগ্রহণ করা ডা. ফরিদ ১৯৭৭ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে ঢাকা পিজি হাসপাতালে যোগ দেন এবং দুই বছর চিকিৎসা সেবার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে চলে যান।
যুক্তরাজ্যে তিনি এমআরসিপিসিএইচ, এফআরসিপিসিএইচ এবং ডিসিএইচ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ইউনিভার্সিটি হসপিটালস বার্মিংহামে কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইউরোপ বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর, আল কুরআন একাডেমি লন্ডনের ট্রাস্টি, ইডেন একাডেমি কভেন্ট্রি ইউকের ট্রাস্টি এবং সেন্টার ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই মতবিনিময় সভায় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ডা. ফরিদের নেতৃত্বে আস্থা প্রকাশ করেন এবং তার প্রতি সমর্থন জানান।