
শ্যামল দত্ত, চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ঃ যশোরের চৌগাছায় পৌষের হিমেল হাওয়ায় ঘন কুয়াশায় হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে চৌগাছা। গত কয়েকদিনের তুলনায় কমছে তাপমাত্রা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্যের দেখা মিলছে না এ উপজেলায় । ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে আছেন খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ। শীতে সময় মতো কাজে যেতে পারছেন না তারা। নষ্ট হচ্ছে ধানের বীজতলা। তীব্র ঠান্ডায় দেখা দিচ্ছে শীতজনিত নানা রোগ। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা।চৌগাছায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলে জানিয়েছে যশোর আবহাওয়া অফিস। যশোরের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, আগমী ৫-১০ ইং তারিখ পর্যন্ত তাপমাত্র ৬-৭ ডিগ্রির মধ্যে উঠানামা করবে। এরপর ঘন কুয়াশা কেটে গেলে তাপমাত্রা আরও কমে আসবে। তখন চৌগাছা উপজেলা উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ চৌগাছা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা ১৩ দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। রবিবার (৫ জানুয়ারি ) জেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এটি দেশে এদিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এর আগে গতকাল রবিবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চৌগাছায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাঁপন লেগেছে হাড়ে। এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। শীত প্রভাব বিস্তার করেছে কৃষিতেও। দুর্ভোগে পড়েছে পশু-পাখিরা।
আবহাওয়া অধিদফতর পূর্বাভাসে জানিয়েছে যশোর, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে রাতে তাপমাত্র কমতে পারে এবং দিনের বেলা তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় ঠান্ডার অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে, প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। তবে ঘর থেকে বের হয়েও কাজ মিলছে না শ্রমজীবী মানুষের।
চৌগাছা উপজেলা শহরের খাদ্য গুদামের সামনে প্রতিদিন তিন-চারশ মানুষ শ্রম বিক্রির জন্য জড়ো হয়ে থাকেন। প্রচণ্ড শীতে সেই সংখ্যা অর্ধেকে এসে দাঁড়িয়েছে। তারপরও কাজ না পাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কিছু মানুষ অনেক বেলা অবধি অপেক্ষা করছেন কাজের আশায়। বিশ্বেস পাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শীতে একদিন কাজ পাই তো তিন দিন পাই না। গত এক সপ্তাহ ধরে কাজ হচ্ছে না। শীতের মধ্যে প্রতিদিন ভোরবেলায় এসে বসে থেকেও কোনও লাভ হচ্ছে না।
শহরের ইছাপুর গ্রামের এলাকার নির্মাণশ্রমিক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘শীতে বাইরে দাঁড়াতে পারছি না। অনেক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু উপায় নেই। কাজের সন্ধানে বের হয়েছি। ঠিকমতো কাজও পাচ্ছি না।’
শহরের কংশারীপুর এলাকার শ্রমজীবী তারেক রহমান শেখ বলেন, ‘বিল্ডিংয়ের রঙের কাজ করি। কাজের সন্ধানে এসেছি। এখানে বসে আছি। এখনও কাজ পাইনি। শীতের ভেতরে অনেক কষ্ট হচ্ছে। পেটের দায়ে ঘরের বাইরে বের হয়েছি। কাজ পাবো কিনা জানি না।’
এদিকে, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে গরম পানি পান করাসহ গরম কাপড় ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

