প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬, ৬:১৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৪:৩৮ পি.এম
চুয়াডাঙ্গার ভোটের বড় ফ্যাক্টর আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নীরব ভোটার

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু,চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
নির্বাচনি প্রচারণা আর গণসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে চুয়াডাঙ্গার দুই আসনের ভোটের মাঠ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ চলে গ্রাম-গঞ্জ, বাজার, হাট আর পাড়া-মহল্লায়। উঠান বৈঠক, পথসভা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা, সব মিলিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো ঘাটতি রাখতে রাজি নন প্রার্থীরা। তবে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও নীরব ভোটাররাই হবেন জয়-পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এবারের নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ, জামায়াত ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। এরমধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, জামায়াত ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির আইনজীবী রুহুল আমিন ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান সজীব।
দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তারা সবাই মাঠে সক্রিয় থাকলেও প্রচারণায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে ভিন্ন মাত্রা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও জনপদে সরব হয়ে উঠছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর জেলার দুই সংসদীয় আসনে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। বিএনপি তাদের হারানো আসন পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া, তেমনি নতুন ইতিহাস গড়তে চায় জামায়াত।
মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রধান লক্ষ্য নিজেদের নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের বাইরে থাকা ভোটাররা। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সমর্থক ভোটাররা। দলীয় প্রার্থী না থাকায় এই ভোটারদের একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে মরিয়া প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
চুয়াডাঙ্গা শহরের এক ভোটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দল নেই, তাই ভাবছি কাকে ভোট দিলে এলাকার জন্য ভালো হবে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেব।
একই ধরনের কথা শোনা গেলো আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী গ্রামেও। সেখানকার এক ভোটার বলেন, তিন প্রার্থীর মধ্যে কাউকে না কাউকে ভোট দিতে হবে। কিন্তু কাকে দেব, এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় আছি।
এটা আসলে নিজস্ব ভোটব্যাংকের নির্বাচন নয়, এটা মন জয়ের নির্বাচন। শেষ মুহূর্তে কে কতটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন, সেটাই ফল নির্ধারণ করবে।
চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে এবারের জয়-পরাজয়ে নিয়ামক ভূমিকায় থাকবে ভাসমান ভোটার। এছাড়াও ব্যক্তিগত ইমেজ, জনসম্পৃক্ততাও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। শুধুমাত্র দলীয় ভোট ব্যাংক দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। বিশেষ করে বর্তমানে আওয়ামী সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যায়, সেটাও হতে পারে জয়-পরাজয়ের টার্নিং পয়েন্ট।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ কামরুল ইসলাম
মোবাইল নং : ০১৭১০৭৮৫০৪০
Copyright © 2026 অপরাজেয় বাংলা. All rights reserved.