প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৭, ২০২৬, ৬:২৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৭, ২০২৬, ৮:৪৬ এ.এম
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে ৪ শিশুসহ ৮জন উদ্ধার

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা জীবননগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাচারের সময় ৪ শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই দালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল জীবননগর থানা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সোলায়মান সেখের তত্ত্বাবধানে জীবননগর থানা পুলিশ দালাল কর্তৃক প্রতারণার শিকার ৪ জন শিশুসহ ৮ বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে ভারত গমনের চেষ্টাকালে উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন আগে অবৈধভাবে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে বসবাস করতেন। প্রায় ৭-৮ মাস আগে তারা সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন। পরে পুনরায় ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
যশোরের মনিরামপুর এলাকার দালাল শফির মাধ্যমে জীবননগরের বেনীপুর গ্রামের স্থানীয় দালাল ফারুক হোসেন ও ইসরাফিল হোসেনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। ভারতে ‘কার্টুন তৈরির ভালো কাজ’ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। গত শনিবার রাত ৩টার দিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়ে দালালরা ভিকটিমদের ভারতে পার না করে কৌশলে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় রাকিব মোল্লা নামে একজনকে মারধর করা হয়। পরে দালালরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে জীবননগর থানা-পুলিশ ইসরাফিল (৩২) ও উজ্জ্বল হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। তারা জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের মধ্যে রয়েছেন রাকিব মোল্লা, নাইস মিনা খানম, লিমন মোল্লা, সাথী খাতুনসহ মোট ৮ জন, যার মধ্যে ৪ জন শিশু। তাদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপসআল নাসের আল নাসের বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে যত বড় প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।’ দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, এক দালাল চক্র ৪ জন শিশুসহ ৮ জনকে ভারতে পাচার করবে। তাৎক্ষণিক জীবননগর থানাকে ভিকটিম উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হলে জীবননগরের বেনীপুর সীমান্ত থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। দালাল চক্রের ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানব পাচার আইনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ কামরুল ইসলাম
মোবাইল নং : ০১৭১০৭৮৫০৪০
Copyright © 2026 অপরাজেয় বাংলা. All rights reserved.