চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় কুটিলা খাতুন (৪৩) নামের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যান্সারের অসহনীয় যন্ত্রণায় ভুগে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
গতকাল ভোরে উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামের মাঝেরপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশের একটি আমবাগান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কুটিলা খাতুন সাহেবপুর গ্রামের দিনমজুর হাসমত আলীর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জননী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার আশায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেওয়া হলেও অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতির দিকে যেতে থাকে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল বারি বলেন, দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় কুটিলা খাতুন মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। অসহনীয় যন্ত্রণা বাড়লে তিনি মাঝে মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টাও করতেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পরিবারসহ আমাদের ধারণা, অসুস্থতার যন্ত্রণা সইতে না পেরে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
কুটিয়া খাতুনের পরিবারের বরাত দিয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল বারি আরও বলেন, ভোরে সাহরি শেষে সবার অজান্তে তিনি বাড়ির পাশের আমবাগানে যান। ফজরের নামাজ শেষে তারই বোনের ছেলে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পেয়ে দ্রুত পরিবারের অন্য সদস্যদের খবর দেয়। পরে তারা মরদেহ নামিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে আসমানখালি পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক ফিরোজ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি বলেন, পরিবারের দাবি, কুটিলা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

