প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ৪:২২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৫, ৬:৪১ এ.এম
চুয়াডাঙ্গায় ইলিশের বাজার চড়া, দামে অস্বস্তি

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু, চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গায় ইলিশ মাছের বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দামে স্বস্তি নেই। গত বছরের তুলনাই ইলিশের ডাবল দাম ছাড়িয়েছে এবার। ভারতে ইলিশের রপ্তানির খবরে দেশের ইলিশের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শহরের কোর্টমোড়সহ বিভিন্ন বাজারে ইলিশের এই দামের চিত্র দেখা গেছে। তবে ক্রেতাদের দাবি, ইলিশের বাজারে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। তাহলে ইলিশের বাজারে স্বস্থি ফিরবে।
সরেজমিনে বাজার ঘুরে জানাগেছে, আসন্ন দূর্গাপুজা উপলক্ষে দেশের ইলিশ যাবে ভারতে। আর তাই এর প্রভাব পড়েছে সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গার বাজারেও। প্রতি কেজি সাইজের ইলিশের দাম ছাড়িয়েছে ডাবলের বেশি। এতে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতাদের নাজেহাল অবস্থা। মাঝারি সাইজের ইলিশ ১২০০- ১৩০০ টাকা। গত বছরের তুলনায় এই ইলিশের দাম বাড়তি ৫০০-৬০০ টাকা। গতবারের তুলনায় ১০০ টাকা বেড়ে ঝাটকা ইলিশ কেজিতে ৪০০ টাকা। আর গুটকা ইলিশের দাম কেজিতে ৩০০ টাকা বেড়ে ৬০০ টাকা কেজি। আর কেজি সাইজের ইলিশ কেজিতে ৭০০ টাকা বেড়ে ২১০০ টাকা। এই ভাবে ইলিশের বাজার চড়াই দামে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের এবছর ইলিশ খাওয়া যেন মহাবিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইলিশ ব্যবসায়িরা জানান, আগামি ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ বাজারে বিক্রি হবে। তারপর ইলিশ মাছ বিক্রি বন্ধ হবে। এখন বরিশাল, চিটাগাং ও পটুয়াখালী জেলা থেকে চুয়াডাঙ্গার বাজারে ইলিশ আসছে। গত বছরের তুলনায় এবছর ইলিশের দাম বেশি। বাড়তি দাম দিয়ে ইলিশ কিনতে হচ্ছে ব্যসবায়িদের। যার কারণে চুয়াডাঙ্গার বাজারে ইলিশের দাম আকাশ ছোঁয়া। এখন শুধু মাত্র ছোট সাইজের ইলিশ জালে ধরা পড়ছে। এর বাইরে বড় সাইজের ইলিশ ধরছে না। দেশের ইলিশ ভারতে রপ্তানি হওয়ার চুক্তি ফাইনাল হওয়ার পর। বাজারে ইলিশ মাছের দামের প্রভাব পড়েছে। ইলিশের বাজার বিকাল থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত জমজমট থাকছে। সামনে দিনে ইলিশের মাছের দাম আরও বাড়তে পারে ধারণা করা হচ্ছে।
ইলিশ কিনতে আসা এক ক্রেতা রতন লাল সাহা বলেন, এবছর শুরু থেকেই ইলিশের দাম বেশি। সব সাইজের ইলিশ দাম ডাবল। বছরের একবার ইলিশ কিনে খাই। তারপর আবার যদি এমন দাম বৃদ্ধি হয় ইলিশের তাহলে কিনে খাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে।
আরেক ক্রেতা রমজান আলি বলেন, মধ্য ও উচ্চমধ্য আয়ের মানুষেরা ইলিশ কেনায় অসহ্য হয়ে পড়ছে। তাহলে নিম্ন আয়ের মানুষেরা কি ভাবে ইলিশ কিনে খাবে। এই ভাবে ইলিশ বাজার যদি এমন হয়। তাহলে ইলিশ কিনে খাওয়া খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ইলিশের বাজারে মনিটরিংয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তা না হলে এই ভাবে ইলিশের বাজার অনিয়ন্ত্রণ হয়ে যাবে।
এবিষয়ে কথা হলে চুয়াডাঙ্গা জেলা ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল ইসলাম বলেন, ইলিশের দাম পার্শবর্তি জেলার মতোই বিক্রি করতে হবে। এমনটাই ব্যবসায়িদের বলা হয়েছে। এর বাইরে যদি দাম বাড়তি করে তাহলে আইন প্রয়োগ করা হবে। তাছাড়া ইলিশ মাছের সরবরাহ ভালো। বাজার মনিটরিং অব্যাহত আছে। সামনের দিন থেকে ইলিশের বাজারে মনিটরিংয়ে জোড়দার করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ কামরুল ইসলাম
মোবাইল নং : ০১৭১০৭৮৫০৪০
Copyright © 2025 অপরাজেয় বাংলা. All rights reserved.