
অনলাইন ডেক্স
সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় চারটি ক্ষেত্রে ‘খাজা উসমান খাঁ সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫’ ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যে এবার আট গুণী ব্যক্তিত্বকে এই অ্যাওয়ার্ড হাতে হাতে দেওয়া হবে। জানুয়ারী , ২০২৬, শনিবার সকাল ১১ টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি এন্ড লাইব্রেরী এর সেমিনার রুমে “খাজা উসমান খাঁ সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫” এর বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর খাজা উসমান খাঁ সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড-এর সহ-সভাপতি ও এসিক এসোসিয়েশনের সভাপতি কবি মো. নূরুল আবেদীনের সভাপতিত্বে ৮ গুণী ব্যক্তিকে অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করেন গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হুদা লিটন। লাইভসহ উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে স্বাগত বক্তব্য দেন, সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার, একে একে বক্তব্য রাখলেন, অ্যাওয়ার্ড কমিটির সদস্য ও ইলেক্টর ডাঃ হিউবার্ড চক্রবর্তী, ইলেক্টর বাহার উদ্দিন, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আব্দুল গফুরসহ গৌরীপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান শুরুতেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করে, প্রয়াত পেন অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাংবাদিক শাহ আলম ভ’ঁইয়াসহ এবং ইলেক্টরদের মধ্যে সদ্য প্রয়াত রইছ উদ্দিন, প্রয়াত স্বপন ভদ্র তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আন্তরিকভাবে সবাই উঠে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করলেন।
চারটি ক্ষেত্রের মধ্যে শিল্পকলা, শিক্ষা, ভাষা ও সাহিত্যের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ৪ জন-কুমিল্লা জেলার জীবন্ত কিংবদন্তী, বিখ্যাত টেলিভিশন, চলচ্ছিত্র, মঞ্চ অভিনেতা আজিজূল হাকীম, গোপালগঞ্জ জেলার কবি, লেখক, গবেষক অবসরপ্রাপ্ত সচিব ড. মোহাম্মদ আলী খান; কিশোরগঞ্জ জেলার কবি ও সাহিত্যিক শামীম আরা জামান; নেত্রকোনা জেলার সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আবু ইমরান ছিদ্দিকি রুবেল। সাংবাদিকতা ও আলোকচিত্রের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ২ জন- বৈশাখী টেলিভিশন ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি ও ইংরেজি ডেইলী এক্সপ্রেস পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মো. রাকিবুল হাসান রুবেল; দৈনিক কালের কন্ঠ ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি আলম ফরাজী। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণা ক্ষেত্রে নির্বাচিত হয়েছেন ময়মনসিংহ জেলার কৃষি গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিসটেন্স প্রজেক্ট (ফ্রিপ) এর সহকারী প্রকল্প পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. মো. হমায়ুন কবীর, (ডিএই, কৃষি মন্ত্রণালয়, ঢাকা।) এবং সমাজসেবায় জামালপুর জেলার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবী মো রুকনুজ্জামান।
অ্যাওয়ার্ড কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রায়হান উদ্দিন সরকার বলেন, ক্রিয়েটিভ এসোসিয়েশন ও এসিক এসোসিয়েশন এর সহযোগিতায় সমাজের উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য এক বছর অন্তর অন্তর বীরাঙ্গনা সখিনা সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড ও খাজা উসমান খাঁ সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এই মাসে ”খাজা উসমান খাঁ সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড-২০২৫” প্রকাশ করার পর এপ্রিল মাসের যে কোনো একদিন ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে “খাজা উসমান খাঁ সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড-২০১৩ ও ২০২৫” এর রৌপ্য ফলক বা সিলভার কয়েন সম্বলিত ঘোড়ার উপর বীরযোদ্ধার প্রতিচ্ছবির আকৃতির পদক বা ক্রেস্ট, উত্তরীয় ও সার্টিফিকেটসহ মোট ১৫জন বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। তাছাড়া এ বছরে ’ পেন অ্যাওয়ার্ড অ্যাফেয়ার্স-২০২৬’ ম্যাগাজিন প্রকাশিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় অবস্থিত “দি ইলেক্টোরাল কমিটি ফর খাজা উসমান খাঁ সিলভার পেন অ্যাওয়ার্ড” নামে সংগঠনটি তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে- ঐতিহাসিক কেল্লা বোকাইনগর অধিপতি ঈশা খাঁর অনুগত রোমান্টিক হিরো খাজা উসমান খাঁর নামে এই অ্যাওয়ার্ড এর আয়োজন করা হয়। পেন অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে ১. ময়মনসিংহের গেীরীপুর উপজেলায় রোমান্টিক হিরো খাজা উসমান খাঁর ইতিহাস অবহিত করা, ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধরে রাখা ও সমৃদ্ধ করা; ২. ইলেক্টোরাল ভোটিং সিস্টেম প্রবর্তন ও পরীক্ষামূলকভারে এর প্রয়োগ ও সাফল্য এবং ইলেক্টোরাল ভোটের ফলাফলের মাধ্যমে অ্যওয়ার্ড বিজয়ীদের ঘোষনা। ৩. বৃহত্তর জেলাগুলোতে কোন বিশিষ্টজন উল্লেখিত চার বা একাধিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় বিশেষ অবদান রেখেছেন; তাদের নিকট থেকে প্রোফাইল সংগ্রহ করে ইলেক্টোরাল ভোটের মাধ্যমে অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী ঘোষনা করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি মহসিন মাহমুদ শাহ, সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান খোকন, সাংবাদিক ঝিন্টু দেবনাথ, সুপক রঞ্জন উকিল,বিএনপি নেতা মীর হোসের মিরন, এনসিপির নেতা তাজুল ইসলাম শুভ, এসিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো আশরাফুল ইসলাম, এসিক ইয়ুথ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহদাত শাহ, চায়না রাণী সরকার, মো. আমিনুল ইসলাম, এসিক এসোসিয়েশনের সভাপতি কবি মো. নূরুল আবেদীন শামীমা ইসলাম, চয়নিকা রানী দাসসহ গৌরীপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উলেখ্য, আফগান দলপতি খাজা উসমান খাঁ ছিলেন বাংলায় মুঘল আগ্রাসনের মোকাবেলায় আফগানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রাণপুরুষ এবং বাংলায় মুগলদের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ প্রতিদ্ব›দ্বী। । বারো ভূঁইয়াদের একজন অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি পূর্ব বঙ্গের বহৎ ময়মনসিংহ এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ সিলেটে নবাব সমতুল্য জমিদারি পরিচালনা করেন। তিনি মুঘল সেনাপতি মানসিংহ এবং মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং বাংলার সর্বশেষ আফগান সর্দার ও শাসক ছিলেন। তার পরাজয়ের ফলে বাকী সকল পাঠানকে আত্মসমর্পণ করতে হয় এবং সিলেট অঞ্চলটি সুবাহ বাংলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাকে বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে রোমান্টিক ব্যক্তিত্ব বলে মনে করা হয়। বাহারিস্তান-ই-গায়বী, তুজুক-ই-জাহাঙ্গীরী এবং

আকবরনামার মতো বিখ্যাত গ্রন্থে তার জীবনী রয়েছে। ঈসা খাঁর সাথে কাজ করে, উসমান খাঁ বৃহত্তর ময়মনসিংহ জয় করেন। তিনি তার রাজধানী গৌরীপুরে বোকাইনগর দুর্গ শহরটি তৈরি করতে সক্ষম হন এবং এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব বাংলার উপর তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্রাট আকবরের মৃত্যুর আগে বা পরে অর্থাৎ ১৬০০ সালের শুরুর দিকে উসমান খাঁ বোকাইনগর দুর্গ পুনর্র্নিমাণ করে একে ২০,০০০ সৈন্যের একটি শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করতে সক্ষম হন। খাজা উসমান হাসানপুর এবং এগারোসিন্দুরে আরও দুটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলের। বিশাল মুঘল বাহিনী পূর্ব ময়মনসিংহে অভিযান এবং বোকাইনগন আক্রমন সময়ে ১৬১১ সালের নভেম্বর মাসে উসমান খাঁ গৌরীপুরের বোকাইনগর ত্যাগ করে সিলেটে চলে আসে ।

