শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ; প্রতিবাদে মানববন্ধন
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এক সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে। এ ঘটনায় ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি ওই শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। আজ সকালে ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের দুই সদস্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলশিক্ষক ও ছাত্রীর ঘটনা শুনে পরিবারের অভিযোগ পাওয়ার আগেই ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় ঘটনা যাচাই করতে তদন্ত কমিটি গঠনসহ অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাতে আজ তিনি উপজেলা সদরে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় জানতে পারেন, ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে বলে শিক্ষকেরা তাঁকে জানিয়েছেন।
ওই ছাত্রীর চাচা প্রথম আলোকে বলেন, ওই শিক্ষক ভাতিজিকে ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। পরে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে নন–জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছেন। এখন ভাতিজিকে বিয়ে করেছেন বলে প্রচার করছেন ওই শিক্ষক।
একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্কুলছাত্রীকে ওই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব জেনেও শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। ওই বিদ্যালয়ে আগেও এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। তাই স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘সোমবার সকালে আমরা বিদ্যালয়ে যাই। শিক্ষকের বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেছি। পরে বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা শমসাদ বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনা শুনে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসিকে সঙ্গে নিয়ে ওই বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। তবে তাঁদের কাছে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। ওসিকে তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
সূত্র:প্রথম আলো