Type to search

ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামে এসে বিয়ে করলেন ইতালির নাগরিক

আন্তর্জাতিক

ঠাকুরগাঁওয়ের গ্রামে এসে বিয়ে করলেন ইতালির নাগরিক

ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকার গ্রামে এসে বিয়ে করলেন এক ইতালিয়ান নাগরিক। জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অজপাড়াগাঁ চাড়োলের খোকোবাড়ি গ্রামের মারকুস দাসের মেয়ে রত্না রানী দাসের মেয়েকে বিয়ে করেন ইতালির নাগরিক সান্দ্র্রে চিয়ারোমিন্ডে। সোমবার রাতে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী দুজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। চাড়োল ইউপি চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার রায় জানান, সাড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাদের বিয়ে হয়েছে।

বিয়ে প্রসঙ্গে রত্নার বাবা মারকুস দাস বলেন, ‘আমার এক ভাই ইতালি থাকেন। তার মাধ্যমেই জামাইয়ের সঙ্গে আমার মেয়ের পরিচয় হয়। তারপর মোবাইল ফোনে তাদের কথাবার্তা হয়। জামাই সোমবার দুপুর ১টায় বাংলাদেশে পৌঁছার পর আমাদের বাড়িতে আসে। ধর্মীয় সব রীতি মেনে ধুমধাম করে তাদের বিয়ে দিয়েছি।’রত্নার মা জানগি দাস বলেন, ‘আমার দেবর তার পরিবার নিয়ে ইতালি থাকে। সেখান থেকে আমাদের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবের পর মেয়ে বিয়েতে সম্মতি দেয়। পরে আমরা আয়োজন করে বিয়ে সম্পন্ন করেছি। আমার জামাই মেয়েকে ইতালি নিয়ে যাবে। পরে আমরাও যাবো।’

এ বিষয়ে রত্না রানী বলেন, ‘সান্দ্র্রের সঙ্গে বিয়ের ব্যাপারে আমার চাচা মা-বাবাকে প্রস্তাব দেন। পরে মা-বাবা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমিও কথা বলি। একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়। চাচা আমাকে ইতালির কিছু ভাষা শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সেগুলো দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলি। তারপর সোমবার আমাদের বিয়ে হয়। সান্দ্রে অনেক ভালো মনের মানুষ। সে সবকিছু মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছে। সেও আমাদের ভাষা শেখার চেষ্টা করছে।’

সান্দ্রে চিয়ারোমিন্ডে বলেন, ‘ইতালিতে রত্নার চাচার সঙ্গে আমি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। সেখানে দেখেছি, তার দাম্পত্য-জীবন অনেক সুন্দর। এ থেকেই আমি অনুপ্রাণিত হয়ে চাচাকে বলি বাংলাদেশে বিয়ে করার ইচ্ছার কথা। তিনি রত্নার বিষয়ে আমাকে প্র্রস্তাব দেন। আমারও তাকে অনেক পছন্দ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী ও তার পরিবার অনেক ভালো। তারা অনেক আন্তরিক ও ভালো মনের মানুষ। আমি আমার স্ত্রীকে আমার দেশে নিয়ে যাবো। পাসপোর্ট ও ভিসা-সংক্রান্ত সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা চলে যাবো।’

ওই গ্রামের বাসিন্দা সুদেব ঘোষ বলেন, ‘বিয়েতে অনেক আনন্দ করেছি। ইতালির নাগরিক আমাদের গ্রামে এসে বিয়ে করলেন, এটি অনেক আনন্দের বিষয়। অন্যান্য বিয়ের চেয়ে এই বিয়েটা একটু ব্যতিক্রম। বিদেশ থেকে কেউ এসে বিয়ের ঘটনা এই গ্রামে প্রথম।’

চাড়োল ইউপি চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার রায় বলেন, ‘সোমবার বিয়ের মাধ্যমে তাদের প্রণয়ের সফল পরিণতি ঘটে। আমি নিজেও বিয়েতে অংশ নিয়েছিলাম। আমি তাদের আশীর্বাদ করি এবং মঙ্গল কামনা করি।’

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ইসলাম ডন বলেন, ‘ইতালিয়ান নাগরিক এসে খোকোবাড়ি গ্রামে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি জানর পর সেখানে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়েছি।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *